হ্যাঁ ভোটের প্রচারে গিয়ে হেনস্তার শিকার নারীরা

কক্সবাজার-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থীকে শোকজ

সোমবার ( ৯ ফেব্রুয়ারি ) কক্সবাজার–২ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ ও তার কর্মী জাগিরাঘোনা ৭ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার মোহাম্মদ শফিউল আলমকে এ নোটিশ দেয়া হয়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

Location :

Cox's Bazar
ধানের শীষের প্রার্থী আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ
ধানের শীষের প্রার্থী আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ |সংগৃহীত

কক্সবাজারের মহেশখালীতে দাঁড়িপাল্লার নারী কর্মীদের হেনস্তার ঘটনায় ধানের শীষের প্রার্থীকে শোকজ নোটিশ দিয়েছেন কক্সবাজার–২-এর নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান মো. আশিকুর রহমান।

সোমবার ( ৯ ফেব্রুয়ারি ) কক্সবাজার–২ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ ও তার কর্মী জাগিরাঘোনা ৭ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার মোহাম্মদ শফিউল আলমকে এ নোটিশ দেয়া হয়। এ বিষয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মহেশখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে তাদের লিখিত ব্যাখ্যা দেয়ার নির্দেশ দেন।

হেনস্তার শিকার নারীরা জানান, কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের জাগিরাঘোনা গ্রামে গণভোট ‘হ্যাঁ’ ও দাঁড়িপাল্লার পক্ষে প্রচারণা যান কয়েকজন নারী। এসময় ওই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও বিএনপি নেতা মোহাম্মদ শফিউল আলম ওরফে শফি মেম্বার নারীদের প্রচারে বাধা দেন।

তিনি নারী কর্মীদের তুই-তোকারি করেন বলেন, এটা আমার এলাকা, এখানে কেউ ভোট চাইতে আসার সাহস করেনা। তোরা এখানে কেন আসছোস? তিনি নারীদের গালিগালাজ করে দ্রুত তার এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেন। না হলে মানুষ ডেকে বেইজ্জতি করা হুমকি দেন। এতে নারী কর্মীরা প্রতিবাদ জানালে তিনি তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে মারতে উদ্যত হন। বাধ্য হয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষের নারী কর্মীরা এলাকা ত্যাগ করে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করেন।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কক্সবাজার–২ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান মো. আশিকুর রহমান ধানের শীষের প্রার্থী আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ ও তার ক্যাডার শফি মেম্বারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন।

নোটিশে বলা হয়েছে, আপনি (ধানের শীষের প্রার্থী আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার জেলাধীন নির্বাচনী এলাকা নম্বর–২৯৫, কক্সবাজার–২ থেকে রাজনৈতিক দল ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’ কর্তৃক মনোনীত একজন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ড. হামিদুর রহমান আজাদের পক্ষে বড় মহেশখালী ইউনিয়নের অন্তর্গত ০৭ নম্বর ওয়ার্ড জাগিরাঘোনা এলাকায় কয়েকজন মহিলা কর্মী শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রার্থনা করতে গেলে গত ০৮ তারিখ সকাল ১০টার দিকে আপনার পক্ষে জনৈক স্থানীয় মেম্বার মোহাম্মদ শফিউল আলম তাঁদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেন—মর্মে মো. জাকির হোসাইন কর্তৃক স্বাক্ষরিত অভিযোগ পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়। যা সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা–২০২৫-এর ৬(ক) বিধির লঙ্ঘন।

এমতাবস্থায়, উপর্যুক্ত আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের ভিত্তিতে আপনি ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’ কর্তৃক মনোনীত প্রার্থী আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ এবং মোহাম্মদ শফিউল আলমদের বিরুদ্ধে কেন সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা–২০২৫-এর বিধি ৬(ক) লঙ্ঘনের দায়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না—সে বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো। এ বিষয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, মহেশখালী, কক্সবাজার কার্যালয়ে আপনি বা আপনার মনোনীত অন্য কোনো ব্যক্তি এবং মোহাম্মদ শফিউল আলম স্বয়ং উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো। ব্যর্থতায় অত্র কমিটি আপনাদের শুনানি ব্যতিরেকে বিধি মোতাবেক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

অত্র কারণ দর্শানোর নোটিশটি সত্ত্বর জারিপূর্বক জারির প্রতিবেদন নিম্নস্বাক্ষরকারীর কার্যালয়ে প্রেরণ করার জন্য অফিসার ইনচার্জ, মহেশখালী থানা, কক্সবাজারকে নির্দেশ প্রদান করা হলো।