বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, পরবর্তী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটগতভাবে নয়, অংশ নেয়া হবে দলগতভাবে।
এ সময় তিনি বর্তমান সরকার কর্তৃত্ববাদী একদলীয় পথে হাঁটছে বলে অভিযোগ করেন।
শনিবার (৯ মে) দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের মানবকল্যাণ পরিষদে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াত আয়োজিত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ কর্তৃত্ববাদী একদলীয় পথে হাঁটছে। একটি ইলেকটেড সরকার এসে সিলেকটেড লোকদের দিয়ে স্থানীয় সরকার চালাবেন— সেগুলো আবার দলীয় লোক, সব বিএনপির! যতগুলো সিটি করপোরেশনে, জেলা পরিষদে প্রশাসক দিলেন সব কয়জন বিএনপির।’
এগুলোতে সরাসরি নির্বাচন দেয়ার প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জামায়াত জানিয়েছিলেন বলেও জানান গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, ‘সরকার এসব আচরণের মধ্যদিয়ে গণতন্ত্রের পথে হাঁটছেন না, বরং একদলীয় কর্তৃত্ববাদী একদলীয় পথে হাঁটছে। সেটা ধীরে ধীরে প্রমাণ দিয়েছে। আমরা এই পথ থেকে সরকারকে ফিরে আসার জন্য বলব।’
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নেয়া হবে কিনা— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘আট দল থেকে পরে তা হয়েছে এগারো দল। এটি মূলত নির্বাচনী ঐক্য। এখানে স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। সুতরাং জোটের শরীক দলগুলো আলাদা আলাদাভাবে স্থানীয় নির্বাচনে তাদের প্রার্থী দিবে। আপনারা জানেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অনেক জায়গায় ইতোমধ্যে প্রার্থীও ঘোষণা করেছে। ভবিষ্যতে যদি স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে জোটগত কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয় তাহলে তখন সেটা জানতে পারবেন।’
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই সনদ কার্যকর করার দাবি প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে গণভোটে যে ৭০ ভাগ ভোটার হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন তা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এবং আমাদের আন্দোলন পরিণত জায়গায় না যাওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ এবং সংসদ উভয় জায়গায়ই আন্দোলন চালিয়ে যাবো।’
তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী সংসদে যে উল্টা কথা বলছেন, তারাও হ্যাঁ-তে ভোট দিয়েছেন। হ্যাঁ-তে ভোট দেয়ার অর্থ হলো কোনোপ্রকার নোট অব ডিসেন্ট ব্যতীত সমস্ত সংস্কারকে মেনে নেয়া। জুলাই সনদের কথা দেখিয়ে উনারা বলেন যে, অক্ষরে অক্ষরে মানবো, এটার মধ্যে ফাঁকি আছে। আট-দশটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উনারা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন— মানবেন অর্থ হলো উনারা নোট অব ডিসেন্টসহ মানবেন। তাতে এদেশে সাংবিধানিক সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ কোনো পরিবর্তন হবে না। কর্তৃত্ববাদী শাসনই থেকে যাবে।’
‘আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করার। কিন্তু সরকার জুলাই সনদের কথা বললেও কখনো গণভোটের রায় নিয়ে কথা বলে না। তারা জুলাই সনদ আর গণভোট আলাদা করে ফেলেছে। কারণ, জুলাই সনদে নোট অব ডিসেন্ট আছে, কিন্তু গণভোটে কোনো নোট অব ডিসেন্ট নেই।’
জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘আমরা কোনো জাতীয় সংকটকে জিইয়ে রাখতে চাই না। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কোনো সংকটকে আমরা ইস্যু হিসেবে তৈরি করতে চাই না। জামায়াতে ইসলামীকে মোকাবেলা করার জন্য যখন কোনো যুক্তি, নৈতিকতা, কোনো আদর্শ যখন হারিয়ে গেছে, তখন সরকার দলের লোকেরা জাতীর সামনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমরা দেশের স্বার্থে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার স্বার্থে সরকারকে সহযোগিতা করব। যা আমাদের আমিরে জামায়াত ঘোষণা করেছেন।’
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘আমরা জাতিকে বিভক্ত করতে চাই না। পৃথিবীর কোনো দেশে দেখবেন না যে, পঞ্চাশ, ষাট, আশি বা দশ-বিশ বছরের কোনো ইস্যু নিয়ে তারা দেশকে, জাতিকে ভিভক্ত করে। এখন সরকারের কিছু কিছু লোক— মন্ত্রীরা, যারা পলিসি মেকার, তারা বলছেন, আমরা আর কোনো ইস্যু নিয়ে দেশকে আর বিভক্ত করতে চাই না, ঐক্যবদ্ধ থাকতে চাই। এজন্য আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। সেই সাথে আপনাদেরকে আশ্বস্ত করতে চাই, আগামী ৭ জুন সংসদে বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। আমাদের আমিরে জামায়াত ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির জন্য বিদেশী ঋণমুক্ত হয়ে একটি উন্নয়নশীল দেশ গড়ার লক্ষ্যে যে বাজেট প্রস্তাবনা আসবে তাতে সহযোগিতা করব। আমরা সে লক্ষ্যে প্রি-বাজেট ডিসকাসন করছি। সেইসাথে সরকারের ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দেয়া ও পরামর্শ দেয়ার লক্ষ্যে আমাদের বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। শিগগিরই তা অফিসিয়ালি ঘোষণা করে দেশবাসীকে জানাবো হবে।’
ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধানের সভাপতিত্বে ও জেলা সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলমগীরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রেীয় অ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম। সাবেক ঠাকুরগাঁও জেলা আমির ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা আব্দুল হাকিমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।



