রুমিন ফারহানার বক্তব্যে সংক্ষুব্ধদের ধৈর্য ধরার আহ্বান হুইপ নিজানের

মাদকের ভয়াবহতার কথা উল্লেখ করে হুইপ বলেন, ‘মাদক সুপরিকল্পিত উপায়ে আমাদের এখানে আনা হয়। ঘরে ঘরে মাদকের থাবা। এখান থেকে জাতিকে বাঁচাতে হবে। সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রধান অগ্রাধিকার মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

Location :

Brahmanbaria
রুমিন ফারহানার বক্তব্যে সংক্ষুব্ধদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন হুইপ নিজান
রুমিন ফারহানার বক্তব্যে সংক্ষুব্ধদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন হুইপ নিজান |ছবি : নয়া দিগন্ত

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেছেন, ‘আমি যখন কথা বলব, তখন লক্ষ্য রাখতে হবে যেন আমার কথায় অন্য কেউ আঘাতপ্রাপ্ত না হন। আমি যেমন যেকোনো কথাই বলতে পারব, আবার মনে রাখতে হবে আমার বক্তব্য যেন অশালীন না হয়। সে রকম কথা মাঝে-মধ্যে সংসদে হয়, হয় না যে এরকম না।’

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মাদক, দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে জাতীয় সংসদে সরকারের সমালোচনা করে রুমিন ফারহানার দেয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) তার বিরুদ্ধে আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে ঝাড়ু মিছিল করা হয়।

ঝাড়ু মিছিল প্রসঙ্গে হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, ‘রুমিন ফারহানার বক্তব্যে কেউ সংক্ষুব্ধ হয়েছেন, আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। কিন্তু বিরোধীদলীয় নেতা ১০ সেপ্টেম্বর বক্তব্য রেখেছেন, সংসদ নেতাও বক্তব্য রেখেছেন। সংসদ নেতা বলেছেন, আমাদের সহ্য করতে হবে। গণতন্ত্রের নামই হলো ধৈর্য।’

তিনি বলেন, ‘নেতা যখন বলেছেন ধৈর্য ধরতে, আমি মনে করি আমাদের যারা সংক্ষুব্ধ হয়েছেন, তাদেরও এই ধৈর্য রাখতে হবে। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।’

জ্বালানি সঙ্কট প্রসঙ্গে হুইপ বলেন, ‘এখন জাতীয়ভাবেই গ্যাস-বিদ্যুতের সঙ্কট। আমরা ওই কথা বারবার বলে যে ফ্যাসিস্টরা করে গেছে; ৩৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে, হাতিরঝিলে ওটার জন্য ১০০ কোটি টাকা খরচ করে উৎসব করেছে—ওইসব কথা বলে আর কোনো লাভ নেই।’

তিনি বলেন, ‘এই যে সঙ্কট, সেটা জনগণকে আমরা বলে দিতে চাই। এই সঙ্কট উত্তরণের পথ বের করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।’

মাদকের ভয়াবহতার কথা উল্লেখ করে হুইপ বলেন, ‘মাদক সুপরিকল্পিত উপায়ে আমাদের এখানে আনা হয়। ঘরে ঘরে মাদকের থাবা। এখান থেকে জাতিকে বাঁচাতে হবে। সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রধান অগ্রাধিকার মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।’

এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন এবং জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এ বি এম মোমিনুল হকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।