কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বহুল আলোচিত এ কে বাশার রতন হত্যা মামলার আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়েই নিহতের পরিবার ও মামলার সাক্ষীদের ওপর হামলা চালিয়ে আবারো হত্যার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে কটিয়াদী মডেল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
আসামিরা হলেন সবুজ মিয়া, বাইজিদ মিয়া, ফয়সাল মিয়া, দুর্জয়, বাবু, উজ্জ্বল, এলাছ, রমিজ, সুজন, বকুল ও রাকিবসহ অজ্ঞাত পরিচয়ে ১৫ থেকে ২০ জন।
লিখিত বক্তব্যে তারা প্রশাসনের কাছে আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য বক্তব্য পাঠ করেন নিহত এ কে বাশার রতনের ছোট ভাই মাহফুজুর রহমান।
তিনি বলেন, গত ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ইং তারিখে আসামিরা নির্মমভাবে এ কে বাশার রতনকে হত্যা করে। ওই ঘটনায় কটিয়াদী থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি মামলার প্রধান আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়েই আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
তিনি অভিযোগ করেন, জামিন পাওয়ার পরপরই মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মামলার সাক্ষী ও বাদিপক্ষের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তারা এ কে বাশার রতনের বড় ভাই ছিদ্দিকুর রহমান বাচ্চু, তার মা সুফিয়া খাতুন ও বোনের মেয়ে শ্রাবন্তী আক্তারকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে এবং হত্যার চেষ্টা চালায়। বর্তমানে আহত ব্যক্তিরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নিহতের স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা বলেন, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে না নিলে পুরো পরিবারকে শেষ করে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে। আমরা এখন ঘরে ঘুমাতে পারছি না। যেকোনো সময় আমাদের পরিবারের আরো সদস্য খুন হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জামিন পেয়েই আসামিরা যেভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অবিলম্বে এই সন্ত্রাসী ও খুনিদের জামিন বাতিল করে দ্রুত গ্রেফতার এবং এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার ও কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ছাড়াও স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।



