বাড়তি দামে চাল বিক্রি

রংপুরে এক প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

অভিযান শেষে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের রংপুর বিভাগীয় পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘প্রতিষ্ঠানটি কেমিক্যাল ব্যবহার করে চালের মোড়কে ছাপানো আসল দাম পরিবর্তন করে চড়া দামে বিক্রি করে ভোক্তাদের সাথে প্রতারণা করছিল।’

Location :

Rangpur
বাড়তি দামে চাল বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান চালায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর
বাড়তি দামে চাল বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান চালায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর |নয়া দিগন্ত

রংপুর ব্যুরো

রংপুরে বাড়তি দামে সুগন্ধি চাল বিক্রির অভিযোগে ‘মেসার্স রংপুর চাউল ঘর’ নামে এক প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে নগরীর প্রাইম হসপিটাল মোড়ে এ অভিযান চালানো হয়।

ভোক্তা অধিকারের বিভাগীয় পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম ও জেলা উপপরিচালক মোস্তাফিজার এ অভিযান চালান।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, মেসার্স রংপুর চাউল ঘর নামক প্রতিষ্ঠানে কেমিক্যাল দিয়ে চালের প্যাকেটের গায়ের ছাপানো প্রকৃত দাম মুছে বেশি দাম লিখে বিক্রি করার বিষয়টি হাতেনাতে ধরে ফেলেন কর্মকর্তারা।

একই সাথে প্রতিষ্ঠানটিতে বিপুল পরিমাণ চাল মজুত থাকলেও কোনো ক্রয় রশিদ দেখাতে পারেননি কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটি প্রতি কেজি সুগন্ধি চালের দর ২২ টাকা বাড়িয়ে বিক্রির প্রমাণ পায় ভোক্তা অধিদফতর। পরে অনিয়মের দায়ে প্রতিষ্ঠানের মালিক মাসুদ রানাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান শেষে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের রংপুর বিভাগীয় পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘প্রতিষ্ঠানটি কেমিক্যাল ব্যবহার করে চালের মোড়কে ছাপানো আসল দাম পরিবর্তন করে চড়া দামে বিক্রি করে ভোক্তাদের সাথে প্রতারণা করছিল।’

তিনি জানান, ‘প্রচুর চাল মজুত থাকা সত্ত্বেও তারা ক্রয় রশিদ দেখাতে পারেনি। এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করার পাশাপাশি ক্রয়ের সঠিক রশিদ দেখানোর জন্য সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে।’

তিনি আরো জানান, ‘চাউল ঘরের মালিক গত ৩০ জুলাই প্রতি কেজি সুগন্ধি চাল ১৪৮ টাকায় বিক্রি করলেও দুই দিন পর তা বাড়িয়ে ১৫৮ টাকা এবং আজ (৩ আগস্ট) ১৭০ টাকায় বিক্রি করে বাজারে কৃত্রিম অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করেছেন।’

অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিক মাসুদ রানা দাবি করেন, ‘আমরা মোকাম থেকে যে দামে কিনি, সামান্য লাভে তা বিক্রি করার চেষ্টা করি। বাজার যখন বাড়ে তখন আমাদের কিছু করার থাকে না। পাইকারি মোকামের হারের ওপর ভিত্তি করে সব ব্যবসায়ী দাম নির্ধারণ করে।’

তিনি জানান, ‘অনেক সময় দাম কমে গেলে আমরাও কমে বিক্রি করি। কিন্তু আজকে শুধু বেশি দামটাকেই খেয়াল করা হলো, যা আমাদের জন্য কষ্টের। আমাদের দোকানে কয়েকটি প্যাকেটের গায়ের দাম মুছে যাওয়ায় আমরা সেখানে নতুন দাম লিখে দিয়েছিলাম, যার জন্য জরিমানা করা হয়েছে।’