জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা ফ্যাসিবাদকে বিতাড়িত করেছি। ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন হলেই হবে না, নতুন করে মৌলিক সংস্কারের মাধ্যমে এই দেশকে গড়ে তুলতে হবে। জুলাই ঘোষণাপত্র সময়ের দাবি, যা দিতেই হবে।’
আজ মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তা মোড়ে এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এমন বাংলাদেশ দেখতে চাই, যেখানে গণতন্ত্র থাকবে, সমতা থাকবে, থাকবে ইনসাফ। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ায় নতুন প্রজন্মের ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিজয়ের পর অনেকে সেই আকাঙ্ক্ষা থেকে দূরে সরে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘কুষ্টিয়ায় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসদের স্থান নেই। দুর্নীতির কারণে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুর্নাঙ্গভাবে চালু না হওয়ায় এখানকার জনগণ পুর্নাঙ্গ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নতুন স্বাধীন পাওয়া বাংলাদেশে চাঁদাবাজদের স্থান নেই। আপনারা চাদাঁবাজ, দখলবাজদের বিতাড়িত করুন।’
তিনি আরো বলেন, ‘৫ আগস্টে কুষ্টিয়ার খুনি পুলিশদের বিচার কুষ্টিয়ার মাটিতেই হবে। আমরা এ ব্যাপারে যথেষ্ট আন্তরিক রয়েছি। আপনারা আমাদের সাথে থাকবেন, আমাদের সহযোগিতা করবেন।’
ভারী বর্ষণের মধ্যে দিয়ে এদিন বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়ায় জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ দিয়ে এনসিপির দশম দিনের খুলনা বিভাগের কর্মসূচি শুরু হয়। শহরের দিশা টাওয়ারে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের পরিবার ও আহতদের সাথে সাক্ষাতে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা তাদের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন।
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা অধীর আগ্রহ নিয়ে আন্তরিকতার সাথে তাদের কথা শোনেন এবং তাদের দেয়া প্রতিশ্রতি অনুযায়ী সকলকে সহযোগিতা ও পুনর্বাসনের আশ্বাস দেন।
শহীদ পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে নাহিদ ইসলাম ও নুসরাত তাবাসসুমসহ সকলে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।
এনসিপিরি নেতারা জুলাই বিপ্লবে নিহত ও আহতদের পরিবারকে শান্তনা দিয়ে বলেন, ‘আপনাদের সন্তানেরা শহীদ এবং আহত হয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাক্ষর হয়ে রয়েছেন। তাদের জীবনের মুল্যে আমরা ফ্যাসিস্ট মুক্ত বাংলাদেশ পেয়েছি, যা আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল। তাদের ঋণ কখন শোধ করা যাবে না। তবে তাদের পরিবারকে সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার ব্যবস্থা করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।’
দুপুর ১২টার পর এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নে বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের গ্রামের বাড়ি কয়ায় যান। সেখানে আবরার ফাহাদের মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করে তার কবর জেয়ারত করেন।
এ সময় সেখানে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাজনুভা জাবীন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, তাবাবাসসুম, কেন্দ্রীয় এনসিপির সদস্য আসিফ মোস্তফা জামাল, যুগ্ম সমন্বয়ক নয়ন, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ সদস্য সচিব রিদওয়ান আফ্রিদি ও খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়ক রহমতুল্লাহসহ শত শত নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত শেষে নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আবরার ফাহাদ নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ কর্তৃক নির্যাতিত ও নিহতের ঘটনার মধ্য দিয়ে ভারতীয় তাবেদারের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদী ছিলেন। আজকের জুলাই বিপ্লবের মূল শক্তি আবরার। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলায় তার নিহতের মধ্যে দিয়েই আমাদের জুলাই বিপ্লবের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। আজকের দিনে আবরার ফাহাদকে গভীরভাবে স্মরণ করছি।’
পরে কুমারখালীর আলাউদ্দিন নগর, লাহিনী মোড়ে সংক্ষিপ্ত পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরের পর বড় বাজার থেকে শুরু হয় পদযাত্রা।
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর শ্লোগানে পথচারী ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে থাকা মানুষদের দৃষ্টি আকর্ষণ হয়। পথযাত্রা শেষে শহরের পাঁচ রাস্তা মোড়ে এসে পথ সভা অনুষ্ঠিত হয়।



