কৃষি গবেষণায় গতি আনতে ব্রি’র প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু

কৃষিতে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি বিস্তারের পাশাপাশি গবেষণা ব্যবস্থাপনায় আধুনিকতা আনতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)।

মো: আজিজুল হক, গাজীপুর মহানগর

Location :

Gazipur
কৃষি গবেষণায় গতি আনতে ব্রি’র প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু
কৃষি গবেষণায় গতি আনতে ব্রি’র প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু |নয়া দিগন্ত

কৃষিতে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি বিস্তারের পাশাপাশি গবেষণা ব্যবস্থাপনায় আধুনিকতা আনতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। এ লক্ষে প্রতিষ্ঠানটির গাজীপুর কার্যালয়ে ‘আধুনিক অফিস ব্যবস্থাপনা বিষয়ক দক্ষতা উন্নয়ন’ শীর্ষক ৫ দিনব্যাপী একটি বিস্তৃত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যা কৃষি গবেষণায় কাঠামোগত দক্ষতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে, যার মাধ্যমে নতুন ৬টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন এবং স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের কাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন প্রকল্পে কর্মরত বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, নতুন আঞ্চলিক ও স্যাটেলাইট অফিসের প্রধানগণ এবং ব্রি’র বিভিন্ন গবেষণা বিভাগের বিজ্ঞানীরা।

গবেষণার পাশাপাশি প্রশাসনিক ও আর্থিক সক্ষমতা জোরদারের এ উদ্যোগকে সংশ্লিষ্টরা সময়োপযোগী ও কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। কারণ, আধুনিক গবেষণা ব্যবস্থাপনায় শুধু উদ্ভাবন নয়, বরং দক্ষ প্রশাসন, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রি’র পরিচালক (প্রশাসন ও সাধারণ পরিচর্যা) ড. মুন্নুজান খানম।

তিনি বলেন, একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাফল্য শুধু গবেষণার মানের ওপর নির্ভর করে না; বরং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং দাফতরিক দক্ষতার ওপরও নির্ভরশীল। এ ধরনের প্রশিক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনার পাশাপাশি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও অফিস কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এলএসটিডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো: আনোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রকল্পের কার্যক্রম বিস্তৃত হওয়ায় একটি সমন্বিত প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা এখন অত্যন্ত জরুরি। দক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা গবেষণার পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয়কে শক্তিশালী করে, যার ফলে গবেষণার গুণগত মান বৃদ্ধি পায়।

তিনি আরো বলেন, যথাযথ বাজেট পরিকল্পনা, স্বচ্ছ আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং ব্যয়ের সঠিক অগ্রাধিকার নির্ধারণের মাধ্যমে সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব। এতে অপচয় কমে এবং জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়, যা একটি বৃহৎ গবেষণা প্রকল্পকে টেকসইভাবে পরিচালনায় সহায়ক।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে আধুনিক অফিস ব্যবস্থাপনা, ফাইল ও রেকর্ড সংরক্ষণ পদ্ধতি, দাফতরিক যোগাযোগ কৌশল, হিসাবরক্ষণ ও আর্থিক নীতিমালা, প্রকল্প রিপোর্টিং, মনিটরিং ও মূল্যায়ন এবং ডিজিটাল টুলস ব্যবহারের ওপর ধারাবাহিক সেশন পরিচালিত হচ্ছে। সঞ্চালনায় ছিলেন উপ-প্রকল্প পরিচালক ড. আফছানা আনছারী।

আয়োজকরা জানান, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান ও ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন করবেন, যা তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনে গতি, দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। একই সাথে আঞ্চলিক কার্যালয় ও স্যাটেলাইট অফিসসমূহের কার্যক্রম আরো সুসংগঠিত ও ফলপ্রসূ হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।