এক বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর মিয়ানমারের সাথে সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালুর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে থাকা মিয়ানমারের মংডু থেকে একটি পণ্যবাহী কাঠের বোট টেকনাফ স্থলবন্দরে এসে ভিড়েছে। এতে করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।
শুক্রবার (১ মে) দুপুর দেড়টায় মিয়ানমারের মংডু থেকে কাঠ নিয়ে আসা বোটটি যেন স্থবির হয়ে পড়া বন্দরে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ থাকায় এতদিন যে নীরবতা ছিল, তা ভেঙে এখন সেখানে বইছে স্বস্তির হাওয়া।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রথম চালানে আসা এই বোটে ৫২০ পিস চম্পাফুল ও ৪৪৩ পিস গর্জন কাঠসহ মোট ৯৬৩ পিস কাঠ এসেছে। যা দ্রুত খালাসের প্রক্রিয়া চলছে।
বন্দর পরিদর্শনে এসে স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী জানান, ‘বৈধ পথে ব্যবসা সচল রাখার মাধ্যমে সরকার যেমন রাজস্ব পাবে, তেমনি স্থানীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।’
আমদানিকারকরা বলছেন, এই বাণিজ্য সচল হওয়ায় তারা নতুন করে বুক বাঁধছেন। দীর্ঘদিনের লোকসান কাটিয়ে আবারো লাভের মুখ দেখার আশা সিঅ্যান্ডএফ অ্যাজেন্ট ও ব্যবসায়ীদের।
এর আগে গত ১৪ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী এই বন্দর পরিদর্শন করে দ্রুত বন্দর সচলের আশ্বাস দিয়েছিলেন।
সীমান্ত বাণিজ্য নিয়মিত সচল থাকলে টেকনাফের অর্থনীতিতে আবারো গতি ফিরবে এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
দেড় বছর ধরে চলমান সংঘাতের কারণে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের প্রায় ২৭০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর ফলে নাফ নদীর মিয়ানমার অংশে নৌযান চলাচলও তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
গত বছরের এপ্রিল মাসের শুরুতে পণ্যবাহী জাহাজ থেকে কমিশন (চাঁদা) দাবিকে কেন্দ্র করে আরাকান আর্মির বাধার মুখে মিয়ানমারের জান্তা সরকার সীমান্ত বাণিজ্য কার্যত বন্ধ ঘোষণা করে। এতে শতাধিক আমদানি-রফতানিকারক বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন। পাশাপাশি বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারায় বাংলাদেশ সরকার।



