একশ টাকার জন্য আমতলীতে পোশাক শ্রমিক খুন

কুড়া (ধানের খশি) ক্রয়ের একশ টাকার জন্য পোশাক শ্রমিক সজিব আকন (২০) ও তার পরিবারের ছয়কে কুপিয়ে জখম করে প্রতিবেশী সোনা মিয়া প্যাদা ও তার লোকজন। ঘটনার ১০ দিন পর সোমবার দুপুরে আহত পোশাক শ্রমিক সজিব আকন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা

Location :

Amtali
নিহত পোশাক শ্রমিক সজিব আকন
নিহত পোশাক শ্রমিক সজিব আকন |নয়া দিগন্ত

কুড়া (ধানের খশি) ক্রয়ের একশ’ টাকার জন্য পোশাক শ্রমিক সজিব আকন (২০) ও তার পরিবারের ছয়কে কুপিয়ে জখম করে প্রতিবেশী সোনা মিয়া প্যাদা ও তার লোকজন। ঘটনার ১০ দিন পর সোমবার দুপুরে আহত পোশাক শ্রমিক সজিব আকন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। ঘটনাটি ঘটেছে আমতলী উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামে গত ২১ মার্চ (ঈদুল ফিতরের দিন) সকালে।

জানা গেছে, আমতলী উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামের আয়নালী আকন প্রতিবেশী সোনা মিয়া প্যাদার কাছ থেকে ৭০০ টাকায় দুই মণ কুড়া ক্রয় করে। সোনা মিয়া প্যাদা ওই কুড়া বাবদ বাজার মূল্যের চেয়ে আরো একশ’ টাকা দাবি করেন।

এ টাকা নিয়ে বৃদ্ধ আয়নালী আকনের (৭০) সাথে গত ৫ মার্চ সোনা মিয়ার প্যাদার কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায় সোনা মিয়া প্যাদা প্রতিবেশী আয়নালী প্যাদাকে মারধর করেন।

এ ঘটনার জের ধরে গত ২১ মার্চ অর্থ্যাৎ ঈদুল ফিতরের দিন সকাল ১০টার দিকে আয়নালী আকনের তিন ছেলে তার বাবাকে মারধরের বিষয়ে সোনা মিয়া প্যাদার কাছে জানতে যান। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি এবং ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার এক ঘণ্টা পরে সোনা মিয়া প্যাদার নেতৃত্বে ১৫-২০ জন সন্ত্রাসী আয়নালী আকনের বাড়ীতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। তারা আয়নালী আকন, আল আমিন আকন, সজিব আকন ও রোকেয়া বেগমসহ ছয় জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।

স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক ডা: রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

ওইদিন রাতেই সঙ্কটজনক অবস্থায় ওই হাসপাতালের চিকিৎসক তাদের আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছেন। ওই হাসপাতালে চিকিৎসার ১০ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দুপুরে সজিব আকন মারা গেছেন। অপর আহতরা ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় গত ২২ মার্চ নিহত সজিব আকনের বড় ভাই রুহুল আমিন আকন বাদি হয়ে সোনা মিয়া প্যাদাকে প্রধান আসামি করে ১৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলা করেছেন।

এদিকে গত ২৪ মার্চ এ মামলার ৮ আসামি আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিয়েছেন।

নিহত সজিব আকন ঢাকায় পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গত ২০ মার্চ বাড়ী যান।

নিহত সজিব আকনের ভগ্নিপতি মো: আশরাফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, আমার শ্বশুর আয়নালী আকন প্রতিবেশী সোনা মিয়া প্যাদার কাছ থেকে ৭ শ’ টাকায় দুই মণ কুড়া ক্রয় করেন। এ কুড়া বাবদ আরো একশ’ টাকা সোনা মিয়া দাবি করেন।

এ নিয়ে আমার শ্বশুরকে সোনা মিয়া প্যাদা গত ৫ মার্চ মারধর করেছে। এর জের ধরে গত ২১ মার্চ অর্থ্যাৎ ঈদুল ফিতরের দিন সকালে পুনরায় আমার শ্বশুর বাড়ীতে সোনা মিয়া প্যাদার নেতৃত্বে ১৫-২০ সন্ত্রাসী এসে বাড়ীর সকলকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর আহত চার জনের মধ্যে পোশাক শ্রমিক সজিব আকন সোমবার দুপুরে মারা গেছেন। এ হত্যার সাথে জড়িত সোনা মিয়া প্যাদা ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

আমতলী থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গির হোসেন বলেন, আটজন আসামি আদালত থেকে জামিনে আছেন। বাকী আসামিদের গ্রেফতার চেষ্টা অব্যাহত আছে। দ্রুত তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হবো।