কুমিল্লার সুরাইয়ার হাতে লেখা পবিত্র কোরআন দেখে মুগ্ধ সবাই

মাত্র আট মাসের নিরলস সাধনা, ধৈর্য ও একাগ্রতায় নিজ হাতে সম্পূর্ণ ৩০ পারার পবিত্র কোরআন মাজিদ লিখে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন কুমিল্লার লাকসামের সুরাইয়া জান্নাত (১৮)।

কুমিল্লা প্রতিনিধি

Location :

Cumilla
কুমিল্লার সুরাইয়ার হাতে লেখা পবিত্র কোরআন দেখে মুগ্ধ সবাই
কুমিল্লার সুরাইয়ার হাতে লেখা পবিত্র কোরআন দেখে মুগ্ধ সবাই |নয়া দিগন্ত

মাত্র আট মাসের নিরলস সাধনা, ধৈর্য ও একাগ্রতায় নিজ হাতে সম্পূর্ণ ৩০ পারার পবিত্র কোরআন মাজিদ লিখে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার মুদাফরগঞ্জ এ ইউ ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুরাইয়া জান্নাত (১৮)।

তার হাতে লেখা কোরআনের প্রতিটি পৃষ্ঠা এতটাই নিখুঁত ও দৃষ্টিনন্দন যে, প্রথম দেখায় এটি ছাপা নাকি হাতে লেখা—তা বোঝা কঠিন। সুরাইয়ার হাতে লেখা কোরআন দেখে মুগ্ধ সবাই।

ব্যতিক্রমী এ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা পদক প্রদান করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে লাকসাম উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সুরাইয়া জান্নাতের হাতে সম্মাননা পদক ও স্মারক তুলে দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক রাশেদা আক্তার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা।

এছাড়া কান্দিরপাড় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুর ইসলাম, কান্দিরপাড় উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হারুনুর রশীদ, দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সুরাইয়া জান্নাত লাকসাম উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের চাঁদগাঁও গ্রামের সৌদি প্রবাসী নুর হোসেন লিটন ও জান্নাতুল ফেরদৌস দম্পতির মেয়ে। পড়াশোনার পাশাপাশি অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে তিনি নিজ হাতে পবিত্র কোরআন লেখার উদ্যোগ নেন।

সুরাইয়া জানান, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি কুরআন লেখা শুরু করে একই বছরের আগস্টের শেষ দিকে কাজ সম্পন্ন করেন। নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি অবসর সময়ে লেখালেখি চালিয়ে যাওয়ায় শিক্ষাজীবনে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি। পুরো ৩০ পারার কোরআন লিখতে তার সময় লাগে প্রায় আট মাস। এ কাজে তিনি ৬১১টি পৃষ্ঠা ও প্রায় ৫৫টি কলম ব্যবহার করেছেন।

সুরাইয়া বলেন, প্রতিবার কোরআন লিখতে বসার আগে তিনি অজু করতেন এবং দরূদ শরিফ পাঠ করে লেখা শুরু করতেন। ভবিষ্যতে তিনি হাদিসের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘সহিহ বুখারি’ও নিজ হাতে লেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং এ জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন।

তিনি জানান, তার এই দীর্ঘ সাধনার পথে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে তার ছোট ভাই নাহিদ হাসান।

সুরাইয়ার মা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ছোটবেলা থেকেই তার মেয়ের আরবি ভাষা ও আরবি ক্যালিগ্রাফির প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল। দীর্ঘ আট মাসের পরিশ্রমে মেয়ের এ অসাধারণ অর্জনে পুরো পরিবার গর্বিত।

অনুষ্ঠানে লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা বলেন, ‘এত অল্প বয়সে নিজ হাতে ৩০ পারার পবিত্র কোরআন মাজিদ লিখে সুরাইয়া জান্নাত অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তার হাতের লেখা ছাপা অক্ষরের মতোই সুন্দর ও নিখুঁত। তার এই ব্যতিক্রমী অর্জন নতুন প্রজন্মকে সৃজনশীল, ইতিবাচক ও মূল্যবোধসম্পন্ন কাজে উৎসাহিত করবে।’