অ্যাডভোকেট আতিকুর

‘শ্রমিকদের ওপর আর জুলুমতন্ত্র কায়েম করতে দেয়া হবে না’

‘২০২৩ সালের গাজীপুরে ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনে গুলি করে অনেক শ্রমিককে হত্যা করা হয়েছে। রানা প্লাজা বিধ্বস্তের ঘটনায় ১১ শত শ্রমিক নিহতের পরও তাদের জন্য নিরাপদ কর্মস্থল প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। যা জাতির জন্য দুঃখজনক।’

এমজেএইচ জামিল, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান
বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেছেন, ‘এদেশে শ্রমিকদের ওপর আর জুলুমতন্ত্র কায়েম করতে দেয়া হবে না। এ ব্যাপারে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ ও সোচ্চার থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের আগে ফ্যাসিস্ট সরকারের শ্রমিক সংগঠন শ্রমিকদের ওপর জুলুমতন্ত্র কায়েম করেছিল। তারা শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলতো। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের নামে নিজেরা সুবিধা ভোগ করত। বর্তমান সরকারের শ্রমিক সংগঠন নতুন করে জুলুমতন্ত্র কায়েমের চেষ্টা করছে।’

শুক্রবার (১৫ মে) শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সিলেট মহানগর আয়োজিত দিনব্যাপী ট্রেড ইউনিট দায়িত্বশীল শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। শিক্ষাশিবিরে মহানগর শ্রমিক কল্যাণের আওতাধীন সকল ইউনিটের সভাপতি ও সেক্রেটারিরা অংশ নেন।

অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, ‘বিগত সরকারগুলো শ্রমিকদের ক্ষমতার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করলেও তাদের ন্যূনতম অধিকার প্রতিষ্ঠা করেনি। কারখানার শ্রমিকরা ন্যায্য আন্দোলন করতে গেলে হয়রানির শিকার হয়েছে। বকেয়া বেতন ও মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন করতে গেলে পুলিশি হয়রানি, হুমকি ও জেল-জুলুমের শিকার হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘২০২৩ সালের গাজীপুরে ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনে গুলি করে অনেক শ্রমিককে হত্যা করা হয়েছে। রানা প্লাজা বিধ্বস্তের ঘটনায় ১১ শত শ্রমিক নিহতের পরও তাদের জন্য নিরাপদ কর্মস্থল প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। যা জাতির জন্য দুঃখজনক।’

তিনি আরো বলেন, ‘শ্রমিক সংগঠনগুলো সঠিক দায়িত্ব পালন করলে আজকে শ্রমিকদের এই অবস্থার সৃষ্টি হতো না। শ্রমিক ময়দানে সবচেয়ে বেশি অভাব সৎ নেতৃত্বের। শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সেই অভাব পূরনের চেষ্টা করছে। ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়ন ছাড়া শ্রমিকদের প্রকৃত সমস্যা সমাধান হবে না। তাই শ্রমনীতি বাস্তবায়নের আন্দোলনকে জোরদার করার জন্য কাজ করতে হবে। মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। যখন তখন শ্রমিক ছাটাই বন্ধ, বকেয়া মজুরি প্রদান ও ঈদের আগে বোনাসসহ সকল পাওনা বুঝিয়ে দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।’

ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট জামিল আহমদ রাজুর সভাপতিত্বে ও মহানগর সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল ফারুকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের সিলেট মহানগরের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সহ-সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসাইন ও মহানগর উপদেষ্টা মোহাম্মদ শাহজাহান আলী।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে অন্যেদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের সিলেট মহানগর সহ-সভাপতি মিয়া মো: রাসেল, সহ-সেক্রেটারি কফিল উদ্দিন আলমগীর, আক্কাস আলী, নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক দিলশাদ মিয়া, মুহিবুর রহমান শামীম ও প্রচার সম্পাদক নাজমুল ইসলাম প্রমুখ।