বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ পহেলা বৈশাখ। এই উৎসবকে ঘিরে পটুয়াখালীর বাজারগুলোতে ইলিশের চাহিদা আকাশচুম্বী হলেও সাধারণের নাগালের বাইরে রুপালি ইলিশ। বৈশাখী আয়োজনে পান্তা-ইলিশের প্রথা ধরে রাখতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষ।
রোববার (১২ এপ্রিল) পটুয়াখালী পৌর নিউ মার্কেটের মাছ বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের প্রতি কেজি ইলিশের দাম দুই হাজার ৬০০ টাকা, যা দুই থেকে চার দিন আগেও বিক্রি হতো এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকায়।
এছাড়া ৪৫০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের প্রতি কেজি ইলিশের দাম দুই হাজার টাকা, যা দুই থেকে চার দিন আগেও বিক্রি হতো এক হাজার ৭০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকায়। ৩০০ থেকে ৩৫০ গ্রাম ওজনের প্রতি কেজি ইলিশের দাম এক হাজার ৪০০ টাকা, যা আগে বিক্রি হতো ৯০০ থেকে এক হাজার টাকায়। জাটকা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২০০ টাকা, যা দুই থেকে চার দিন আগেও বিক্রি হতো ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বৈশাখ উপলক্ষে কোল্ড স্টোরেজে রাখা ইলিশ বাজারে ছেড়ে চড়া দাম আদায় করছেন।
বাজারে মাছ কিনতে আসা রায়হান চৌকিদার বলেন, ‘বাচ্চাদের বায়না মেটাতে বাজারে এলাম, কিন্তু দাম দেখে অবাক হচ্ছি। ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের এক কেজি ইলিশের দাম চাইছে দুই হাজার ৬০০ টাকা। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য বৈশাখে ইলিশ খাওয়া এখন বিলাসিতা মাত্র।’
পটুয়াখালী পৌর নিউ মার্কেটের মাছ বিক্রেতা খোকন হাওলাদার বলেন, ‘নদীতে এখন ইলিশ ধরা পড়ার হার কম। এছাড়া সামনে পহেলা বৈশাখ ঘিরে আমাদের চড়া দামে মাছ কিনতে হচ্ছে, তাই কম দামে বিক্রির সুযোগ নেই।’
পটুয়াখালী উপকূলীয় জেলা হওয়া সত্ত্বেও এখানকার সাধারণ মানুষ ইলিশের এই চড়া দামে ক্ষুব্ধ। অনেকে বলছেন, সিন্ডিকেটের কারণে উৎসবের সময় কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে দাম বাড়ানো হয়। পান্তা-ইলিশের ঐতিহ্যে এবার ইলিশের বদলে অনেকে ছোট মাছ বা শুঁটকি দিয়েই বৈশাখী ভোজ সারার কথা ভাবছেন।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল, যাতে কেউ উৎসবকে পুঁজি করে অতিরিক্ত মুনাফা লুটতে না পারে।



