বরগুনায় ট্রাফিক পুলিশের দেয়া মামলায় ক্ষুব্ধ হয়ে নজরুল ইসলাম নামের এক চালক নিজের মোটরসাইকেলে আগুন দিয়েছেন।
রোববার (৬ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বরগুনা শহরের জিরো পয়েন্ট ট্রাফিক বক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটেছে।
নজরুল ইসলাম জেলার উকিলপট্টি এলাকার বাসিন্দা। তিনি বরগুনা-পুরাকাটা সড়কে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বরগুনার শহরের নজরুল ইসলাম তার স্ত্রীর ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য সকালে ক্লিনিকে নিয়ে যান। তবে ভুল করে টাকা না নেয়ায় তিনি বাসা থেকে টাকা আনতে ক্লিনিক থেকে বের হন। এ সময় ট্রাফিক পুলিশ তাকে কাগজপত্র না থাকায় মোটরসাইকেল আটক করে ট্রাফিক আইনে মামলা দিতে চায়। পরে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ছেলেকে বাসায় পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনান। বাসা ঘটনাস্থল থেকে মাত্র কয়েক মিনিটের দূরত্বে হলেও পুলিশ একটি মামলা দিয়ে দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নজরুল নিজের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন।
অপরদিকে ট্রাফিক পুলিশ বলছে, মোটরসাইকেল চালক নজরুলকে কাগজপত্রের কারণে কোনো মামলা দেয়া হয়নি। হেলমেট না থাকায় তাকে একটি মামলা দেয়া হয়েছে।
নজরুলের স্ত্রী বলেন, ‘শারীরিকভাবে আমি খুব অসুস্থ। ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য আমাকে নিয়ে ক্লিনিকে গিয়েছিল। পরে টাকা আনতে বাসায় আসার সময় কাগজপত্র না থাকায় পুলিশ তাকে মামলা দিতে চায়। বাসা কাছাকাছি থাকায় ছেলেকে পাঠিয়ে কাগজ আনালেও পুলিশ মামলা দিয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’
এ বিষয়ে বরগুনা ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘নজরুলকে আমি হেলমেট ছাড়া যেতে দেখে গাড়ি আটক করে মামলা দিয়েছি। তার গাড়ির কাগজপত্র দেখতে চাইলে তাকে বাসা থেকে কাগজ আনার সুযোগ দেই। গাড়ির কাগজ থাকায় হেলমেট মামলা দেয়া হয়েছে। তাই তিনি রাগে ও ক্ষোভে মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন।’
এ বিষয়ে বরগুনা পুলিশ সুপার মো: ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘নজরুলের গাড়ির কাগজ থাকা সত্ত্বেও হেলমেট না পরা, রং পার্কিং বা উল্টো পথে চালানোর কারণে মামলা হয়। এটা আইনে রয়েছে। তাকে যে মামলা দেয়া হয়েছে তা ট্রাফিক আইন অনুযায়ী দেয়া হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘নজরুল ইসলাম আমার বরাবর ভুল স্বীকার করে একটি আবেদন করেছেন। সেজন্য তাকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।’



