দোয়ারাবাজারে পোকার আক্রমণ ও শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের ক্ষতি

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিস্তীর্ণ হাওরে ইতোমধ্যে পেকেছে ধান। কিছু দিনের মধ্যে শুরু হবে ধান কাটার কাজ। তবে মাজরা পোকা, ব্লাস্ট রোগ আর শিলাবৃষ্টির কারণে অধিকাংশ ফসল নষ্ট হয়েছে বলে দাবি কৃষকদের।

সোহেল মিয়া, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ)

Location :

Sunamganj
ক্ষতির মুখে বোরো ধান
ক্ষতির মুখে বোরো ধান |নয়া দিগন্ত

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে হাওরে ফসলের মাঠগুলোতে পাকতে শুরু করেছে বোরো ধান। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে ধানের শীষ মরে সাদা হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে উপজেলার কৃষকদের। ফলন ভালো হলেও পোকার আক্রমণ আর শিলাবৃষ্টিতে হতাশ কৃষকরা।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সরেজমিনে বোরো ধানের চাষাবাদ হওয়া কয়েকটি হাওরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইতোমধ্যে নিচু এলাকার কোনো কোনো জমিতে অল্প পরিসরে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহে পুরোদমে শুরু হবে ধান কাটা। এখন কৃষকরা জমি থেকে ধান কেটে ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিস্তীর্ণ হাওরে ইতোমধ্যে পেকেছে ধান। কিছু দিনের মধ্যে শুরু হবে ধান কাটার কাজ। তবে মাজরা পোকা, ব্লাস্ট রোগ আর শিলাবৃষ্টির কারণে অধিকাংশ ফসল নষ্ট হয়েছে বলে দাবি কৃষকদের।

ঠিক এই সময়ে ধানের শীষে দেখা দিয়েছে পোকার আক্রমণ আর থেমে থেমে শিলাবৃষ্টি। বিষয়টি দুশ্চিন্তায় ফেলেছে স্থানীয় কৃষকদের।

জেলার সবচেয়ে বড় ও সর্ববহুল ধান উৎপাদিত হাওর উপজেলার পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের উষাইরগাঁও অংশে গিয়ে দেখা যায় এ চিত্র। সবুজ ধানের শীষের সমারোহে মাঝে মাঝে মরে যাচ্ছে শীষ। ধানের ক্ষতি হওয়ায় কিভাবে নিজের লক্ষ্য পূরণ করবেন সে নিয়েও দুশ্চিন্তার শেষ নেই স্থানীয় কৃষকদের।

উষাইরগাঁও এলাকার কৃষক মনা মিয়া এবং মাহমুদ আলীসহ বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, হাড় ভাঙা পরিশ্রমে ধানের জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে ধানের চারা রোপন এবং তা রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছেন। আশায় ছিলেন এবার ধানের বাম্পার ফলন হবে। কিন্তু ধান পাকতে শুরু করার আগ মুহূর্তে শীষ মরা রোগ ফসলের ক্ষতি করছে। সাথে শিলাবৃষ্টি দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। পরিচর্যা করেও এ রোগ ঠেকানো যাচ্ছে না। কাঁচা ধানের শীষ দেখে মনে আশা জাগলেও এখন হতাশায় ভুগছেন তারা। জমির ৪০ ভাগ ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

এ দিকে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়েছে। যা গতবছরের তুলনায় এবার বোরো চাষ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। ধান ঘরে ওঠার মুহূর্তে প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ধান ঘরে উঠবে বলে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান।

দোয়ারাবাজার উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আশ্রাফুল আলম বলেন, ‘বোরো আবাদের শুরু থেকেই কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেয়া হয়েছে। পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষায় কৃষকদের বাড়তি পরামর্শ দেয়া হয়েছে।’