‘আমি আমার স্ত্রীকে মেরে ফেলেছি, আমি ঘরে আছি, আত্মসমর্পণ করব, আপনারা আমাকে নিয়ে যান।’ স্ত্রী জেমি আক্তারকে (২০) বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার পর স্বামী রাকিব হাসান (২২) জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে এভাবেই তাকে গ্রেফতারের আবেদন করেন।
নিহত গৃহবধূ জেমি আক্তার দিনাজপুর জেলার শেতাবগঞ্জ উপজেলার মিচরিগোলা গ্রামের জাহিদুল ইসলামের মেয়ে। তার স্বামী রাকিব হাসান বগুড়া জেলার লতিফপুর গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে। তাদের সংসারে দুই বছর বয়সী তাজিম এবং দুই মাস বয়সী রাইসা আক্তার জেরীন নামে দুই সন্তান রয়েছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) কাশিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান এসব তথ্য শনিবার (৯ আগস্ট) নিশ্চিত করে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, ‘পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জেমি ও রাকিব দম্পতির মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকতো। স্থানীয়ভাবে কয়েকবার মীমাংসাও করে দেয়া হয়। কিন্তু শুক্রবার সন্ধ্যার পর কোনো একসময় রাকিব তার স্ত্রীকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে। পরে সে নিজেই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে নিজ ঘরেই পুলিশের জন্য অপেক্ষা করে। ঘরের ভেতর মায়ের নিথর দেহের পাশে দুই শিশুসন্তান তাজিম ও রাইসা আক্তার জেরীন কাঁদছিল।’
তিনি আরো জানান, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বামী রাকিব হাসানকে কান্না করতে দেখেন এবং ঘরের মেঝেতে স্ত্রীর লাশ দেখতে পান। পুলিশ রাকিবকে হাতকড়া পরানোর সময় তাকে অনুশোচনা করে কাঁদতে দেখা যায়।’
নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলেন জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।



