নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের ১৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯)।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) র্যাবের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ছিনতাই বৃদ্ধি পাওয়ায় গত দুই দিন সাঁড়াশি অভিযানে নামে র্যাব-৯-এর একাধিক টিম। সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৬ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার গোপালপুর এলাকার শাহ আলমের ছেলে রিমন আহমদ (৩৬), সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ থানার দত্তরাইল (নোয়াপাড়া) এলাকার শফিক আহমদ ওরফে খস্তই মিয়ার ছেলে সাবুল আহমদ (২৫), সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানার সিকান্দরপুর এলাকার মৃত ছোয়াব উল্লাহর ছেলে ইমন আহমদ (৩০), সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর থানার গামাইরতলা এলাকার জহির মিয়ার ছেলে নুরুল ইসলাম শুভ (২০), সিলেট নগরের কাজিটুলা এলাকার আব্দুল লতিফ আনা মিয়ার ছেলে শিহাব আহমেদ ওরফে জগলু (৩৯), মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর থানার সুরীখাল কালাবাজার এলাকার মৃত আঙ্গুর মিয়ার ছেলে জাবেদ ওরফে নেইমার (২৪), সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকার মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে রাজু ইসলাম শফিক (২২), মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থানার বরমচাল এলাকার মৃত হারুন মিয়ার ছেলে আলাল হোসেন (২৩), সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর থানার ফতেপুর এলাকার রমনী কান্ত সরকার ওরফে অঞ্জু সরকারের ছেলে দিব্য সরকার (২২), সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যনগর থানার সাউদপাড়া এলাকার মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে রিপন মিয়া (৩২), সিলেট নগরের দক্ষিণ কাজলশাহ এলাকার মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে রিয়াজ আহমদ (২২), সিলেট নগরের বাগবাড়ী এলাকার মৃত তমিজ মিয়ার ছেলে বাবলু আহমদ (২৮), সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার বরইকান্দি এলাকার মৃত চুন্নু মিয়ার ছেলে মইনুল ইসলাম ওরফে ডাইল (৩৮), দক্ষিণ সুরমা থানার চান্দাই (শিববাড়ী) এলাকার কয়েছ মিয়ার ছেলে সুমন (২৫), গোলাপগঞ্জ থানার দত্তরাইল পশ্চিম এলাকার অনন আহমদের ছেলে সুহেল আহমদ (২১) এবং কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর থানার লৌহগাঁও এলাকার গোলাপ মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন (২৭)।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা সিলেট মহানগরের বিভিন্ন স্থানে সংঘবদ্ধভাবে ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তারা জানায়, সাধারণত কম জনবহুল এলাকায় পথচারী বা ধীরগতির যানবাহনের যাত্রীদের লক্ষ্য করে দেশীয় ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছিনতাই করতো। ছিনতাই শেষে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতো এবং প্রয়োজন হলে ভুক্তভোগীদের আঘাত করতেও দ্বিধা করতো না।
র্যাব জানিয়েছে, এলিট ফোর্স হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মাদক, হত্যা, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধ দমনে কাজ করে যাচ্ছে র্যাব। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি নিরাপদ সমাজ গঠনে সংস্থাটির সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
র্যাব জানিয়েছে, পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আটক ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে সিলেটসহ আশপাশের জেলাগুলোতে ছিনতাইকারী চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।



