আগামী শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদরাসা মাঠে জামায়াতের উদ্যোগে ১১ দলের নির্বাচনী জনসভায় এ যাবৎ কালের সবচেয়ে বেশি জনসমাগম হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ৭ ফেব্রুয়ারির জনসভায় সম্মানিত আমিরে জামায়াত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এই জনসভায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের ১১ টি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন তিনি। জনসভায় সর্বোচ্চ উপস্থিতি আশা করছি।
মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নগরীর ধোপাদিঘীর পাড়ে সিলেট-১ (সিটি করপোরেশন-সদর উপজেলা) আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
জনসভাকে সফল করতে গণমাধ্যমসহ সিলেটবাসীর সহযোগিতা কামনা করে ফখরুল ইসলাম বলেন, সমাবেশ শান্তিপূর্ণ করতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি), জেলা প্রশাসন ও অন্যান্য সংস্থা সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছে । ইতোমধ্যে এসএমপি কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে আমরা বৈঠক করেছি। সব সংস্থা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।
ফখরুল ইসলাম বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে অনেক নির্বাচন হয়েছে, কিন্তু জনগণ ভোট দিতে পারেনি। জনগণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। তাই এবারের নির্বাচন খুব গুরুত্বপূর্ণ। ফ্যাসিস্টদের বিদায়ে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তরুণ প্রজন্ম বেশ আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছে ভোট দিতে।
তিনি বলেন, এবার প্রবাসী অধ্যুষিত এ অঞ্চলের প্রবাসীদের একটা সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিদেশ থেকে অনেকে ইতোমধ্যে ভোট দিয়েছেন। এই ভোটগুলো কীভাবে গণনা হবে, কোনো ধরনের কারচুপি যাতে না হয়, আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করেছি। যাতে কোনো কারচুপি না হয়।
মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনী আচরণ ও আইনের প্রতি আমরা সবসময় শ্রদ্ধাশীল। সিলেট-১ আসনে কিছু প্রার্থী আইনের লঙ্ঘন করছেন, সেটাও আমরা অবহিত করেছি। আইন যাতে সবাই মেনে চলেন।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। যারা ছিনতাই কাজের সঙ্গে জড়িত, তারা একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত। তারা নির্বাচনকে সামনে রেখে ছিনতাইসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছেন। এসব সন্ত্রাসীরা ভোটের দিন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে পারে বলে আমাদের আশঙ্কা।
ফ্যাসিস্ট আমলের অস্ত্র উদ্ধারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই জানিয়ে তিনি বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসী ধরতে যৌথ বাহিনীর কোনো অভিযান নেই।
প্রেস ক্লাবের পেছন থেকে একজন সন্ত্রাসীকে আটক করলো, কিন্তু সে কিভাবে এতো দ্রুত জেল থেকে বের হয়, সেটা উদ্বেগের বিষয়। যাদের কাছে অস্ত্র রয়েছে, তারা বিভিন্ন সেন্টারে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এসব সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার না করলে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে সংশয় রয়েছে।
এছাড়া সিলেট সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় এখানে অবৈধ অস্ত্রের মহড়া বেশি। প্রশাসন এসব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না করলে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। ভোটকেন্দ্র দখলের শঙ্কা রয়েছে। বডিঅর্ন ক্যামেরা থাকবে। সিসি ক্যামেরা থাকবে। তবু সংশয় রয়েছে।
নির্বাচনী হলফনামায় বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের ৮৪০ কোটি টাকার ঋণের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির বলেন, তিনি সুস্পষ্ট ঋণখেলাপী। তিনি ব্যাংকের সঙ্গে আলাপ করে ঋণ পুন:শিডিউল করেছেন। যিনি ভোটের আগেই ব্যাংক থেকে ৯০০ কোটি নিতে পারেন। তিনি নির্বাচিত হলে আরো হাজার কোটি টাকা নেবেন না, এটা মানুষ কেমনে বিশ্বাস করবে।
সিলেট জেলা জামায়াতের আমির ও সিলেট-১ (সিটি করপোরেশন-সদর উপজেলা) আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন, সেনাবাহিনীর ওপর আমাদের আস্থা রয়েছে। তারা শক্ত ভূমিকা নিলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। এই নির্বাচন সন্ত্রাস মুক্তির নির্বাচন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, সেক্রেটারি মুহাম্মদ শাহজাহান আলী, সহকারী সেক্রেটারি জাহেদুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিলেট মহানগর আমির মাওলানা এমরান আলম, খেলাফত মজলিসের সিলেট মহানগর আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম প্রমুখ।



