চলমান তীব্র তাপদাহ ও খরায় রাজশাহীর দুর্গাপুরসহ বরেন্দ্র অঞ্চলজুড়ে আম গাছে ধারণকৃত গুটি ব্যাপকভাবে ঝরে পড়ছে। দিনের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বৃষ্টির অভাবে আমের বোঁটা শুকিয়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যা স্থানীয় আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ফলন বিপর্যয়ের বড় শঙ্কা তৈরি করেছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, টানা গরমে অনেক বাগানে গাছের গুটি ঝরে পড়ে প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে আমগাছ। কোথাও কোথাও পাতার ফাঁকে অল্প কিছু গুটি দেখা গেলেও অনেক গাছ সম্পূর্ণ গুটিশূন্য হয়ে পড়েছে।
চাষিরা জানান, চলতি মৌসুমে ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই রাজশাহী অঞ্চলে আমের মুকুল আসতে শুরু করে। বেশিভাগ গাছে প্রায় ৯৫ শতাংশ মুকুল আসায় ভালো ফলনের আশা করেছিলেন তারা। কিন্তু হঠাৎ শুরু হওয়া তাপপ্রবাহ সেই আশায় ভাটা ফেলেছে। ইতোমধ্যে অনেক বাগানে প্রায় ২৫ শতাংশ গুটি ঝরে গেছে।
উপজেলার পুরান তাহিরপুর এলাকার আমচাষি সুরুজ আলী বলেন, ‘এবার সব গাছে প্রচুর মুকুল এসেছিল। গাছের ডাল ভেঙে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল। কিন্তু এখন তীব্র গরমে বেশিবাগ গুটি ঝরে গেছে। অনেক গাছ এখন একেবারেই ফাঁকা।’
একইভাবে আনুলিয়া গ্রামের চাষি এস্তাক সরদার বলেন, ‘গত বছর কয়েক লাখ টাকার আম বিক্রি করেছি। কিন্তু এবার গাছে গুটি কম থাকায় ফলন অনেক কম হবে। এতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’
শ্যামপুর গ্রামের আমচাষি গোলাম মোস্তফা জানান, তার বাগানের প্রায় ৯০ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছিল। তবে মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া তাপদাহে মুকুল নষ্ট হয়ে গেছে এবং যে গুটিগুলো ধরেছিল তার বেশিভাগই ঝরে পড়ছে। এতে উৎপাদন খরচ ওঠা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে রাজশাহী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে ৩৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস । চলতি মাসে আরো কয়েক দফা তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এ বছর আগেভাগে মুকুল আসায় তা কুয়াশা ও তাপপ্রবাহের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে গুটি ঝরে পড়ার প্রবণতা বেড়েছে। খরা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে।
দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী বলেন, ‘গুটি ঝরে পড়া রোধে বাগানে নিয়মিত সেচ দিতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কীটনাশক স্প্রে করতে হবে।’
তবে চাষিরা জানায়, জ্বালানি সঙ্কট ও অনেক এলাকায় পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় সেচ দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে আম উৎপাদনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।



