মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে আলোচিত কৃষক দুলাল মল্লিক হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো: মহারাজ খানকে (৪৭) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার ছোট বিঘাই ইউনিয়নের ভুতুমিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার মহারাজ খান কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের মকুমা গ্রামের মরহুম মোতাহার খানের ছেলে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো: কাওসার আহমেদ জানান, আসামি মহারাজ খান পটুয়াখালী সদর উপজেলার ছোট বিঘাই ইউনিয়নের ভুতুমিয়া এলাকায় এক নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরের একটি খোলা মাঠ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে মকুমা গ্রামের বাসিন্দা মহারাজ খানের পালিত হাঁস-মুরগি প্রতিবেশী দুলাল মল্লিকের জমিতে ঢুকে পাকা ধান নষ্ট করছিল। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে গেলে দুলাল মল্লিকের সাথে মহারাজ খানের পরিবারের সদস্যদের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মহারাজ খান, তার স্ত্রী আকলিমা বেগম (৩৮) ও মেয়ে সাদিয়া আক্তার (২২) সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে দুলাল মল্লিকের ওপর হামলা চালান। এ সময় মহারাজ খানের মেয়ে সাদিয়া আক্তার ধান কাটার কাঁচি দিয়ে দুলাল মল্লিকের মাথায় কোপ দিলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরে স্থানীয়রা দুলাল মল্লিককে উদ্ধার করে প্রথমে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেও দুলাল মল্লিকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) স্থানান্তর করা হয়। পরদিন বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কৃষক দুলাল মল্লিক মারা যান।
এ ঘটনায় নিহত দুলাল মল্লিকের ছেলে শাওন মল্লিক মহারাজ খানকে প্রধান আসামি করে ও আরো তিনজনকে আসামি করে মির্জাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আবদুল ছালাম বলেন, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামি পালানোর চেষ্টা করে এবং পুলিশ সদস্যরা আধা কিলোমিটার দৌড়ে আসামি মহারাজ খানকে গ্রেফতার করেন। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার পলাতক বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



