লোহাগড়া (নড়াইল) সংবাদদাতা
চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এতে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। নড়াইল জেলা শহরসহ তিনটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেলচালকরা আগাম আশঙ্কায় তেল ‘ফুল ট্যাংক’ করে রাখছেন। আর এতেই দেখা দিয়েছে দুর্ভোগ। এই সুযোগে অসাধু তেল ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে। অথচ কোথাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো তদারকি নেই।
পিছিয়ে নেই প্রাইভেটকার, সিএনজিচালিত অটোরিকশাও। জ্বালানি তেল সঙ্কটের শঙ্কায় সবাই গাড়িতে ফুল ট্যাংক তেল নিয়ে রাখছেন। ফলে হঠাৎ করে পেট্রোল-অকটেন-ডিজেলের চাহিদা বেড়ে গেছে। তাই দিনশেষে রাতেও ফিলিং স্টেশনে গাড়ির জট দেখা গেছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল ১০টার পর থেকে নড়াইল ও লোহাগড়ার বিভিন্ন এলাকার পেট্রোল পাম্প ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
এদিকে বাড়তি চাপের কারণে সন্ধ্যার পরই অনেক পেট্রোল পাম্প তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় বন্ধ করে রেখেছে। আবার কিছু তেল পাম্পে ‘তেল নাই’-এ অজুহাতে প্রতিষ্ঠান খোলা রাখলেও তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না।
দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার লোহাগড়া প্রতিনিধি ও আমাদা কলেজের প্রভাষক রূপক মুখার্জি বলেন, ‘তেলের সঙ্কট হতে পারে, এজন্য গাড়িতে ফুল ট্যাংকি লোড করে রাখছি যেন তেল না পাওয়া গেলেও গাড়ি চালানো যায়। তবে আমাকে লোহাগড়া ফিলিং স্টেশন থেকে মাত্র তিন লিটার তেল দিয়েছে।’
শিমুল নামে এক মাইক্রোবাসচালক বলেন, ‘গাড়ি গ্যাসে চালাই। তারপরও রিজার্ভ তেল নিয়ে রাখছি যেন সঙ্কট হলে বসে থাকতে না হয়।’
সমাজকর্মী কিশোর রায় বলেন, ‘দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ থাকা সত্ত্বেও অসাধু ব্যবসায়ীরা সঙ্কটের অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এজন্য সরকারি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি প্রয়োজন।’
এদিকে মার্চ মাসে দেয়া বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য বলছে, দেশে ডিজেল প্রায় ১৪ দিনের, পেট্রোল প্রায় ১৫ থেকে ১৭ দিনের, অকটেন প্রায় ২৮ দিনের, ফার্নেস অয়েল প্রায় ৯৩ দিনের, জেট ফুয়েল প্রায় ৫৫ দিনের মজুত আছে।
সরকারি তথ্যের হিসেবে এখনই জ্বালানি সঙ্কট তৈরি হওয়ার কথা না। তবে সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে জনগণকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।



