ভোলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৯৪ লাখ টাকার ইলিশ মাছ জব্দ

ভোলায় কোস্ট গার্ড ও সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার অভিযানে প্রায় ৯৪ লাখ টাকার ইলিশ মাছ জব্দের ঘটনায় হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ তুলেছেন চরফ্যাশনের সামরাজ মৎস্য ঘাটের ব্যবসায়ীরা।

ভোলা প্রতিনিধি

Location :

Bhola
ভোলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৯৪ লাখ টাকার ইলিশ মাছ জব্দ
ভোলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৯৪ লাখ টাকার ইলিশ মাছ জব্দ |নয়া দিগন্ত

ভোলায় কোস্ট গার্ড ও সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার অভিযানে প্রায় ৯৪ লাখ টাকার ইলিশ মাছ জব্দের ঘটনায় হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ তুলেছেন চরফ্যাশনের সামরাজ মৎস্য ঘাটের ব্যবসায়ীরা।

রোববার (১৭ মে) সকালে এ ঘটনায় ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ মে সামরাজ মৎস্য ঘাট থেকে দুই ট্রাক ইলিশ মাছ নিয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ী ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

ব্যবসায়ীদের দাবি, মাছগুলো মেঘনা নদী থেকে আহরিত হওয়ায় চরফ্যাশন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তাদের বৈধ অনুমতিপত্র প্রদান করেন। তবে ট্রাক দুটি ভোলা সদরে পৌঁছালে ওই দিন রাতে কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন অভিযান চালিয়ে মাছসহ ট্রাক দুটি জব্দ করে।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, সরকার ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিলেও ১ মে থেকে মেঘনা নদীতে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। এরপর জেলেরা নদীতে মাছ আহরণ শুরু করেন। সেই মাছ স্থানীয় আড়ত ও জেলেদের কাছ থেকে কিনে ব্যবসায়ীরা ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছিলেন।

সামরাজ মৎস্য আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি মো: তারেক আজিজ পাটোয়ারী স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগে আরো বলা হয়, জব্দ করা মাছের পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৯১৩ কেজি, যার বাজারমূল্য প্রায় ৯৪ লাখ ২ হাজার ৭৮৪ টাকা।

ব্যবসায়ীদের দাবি, সামান্য কিছু মাছ এতিমখানা ও অসহায়দের মাঝে বিতরণ করা হলেও বাকি মাছের বিষয়ে তারা কোনো তথ্য জানেন না।

এ সময় কোস্ট গার্ড সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের হুমকি দিয়ে ব্যারাক থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, ভোলা সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও কোস্ট গার্ডের ‘খামখেয়ালিপূর্ণ’ আচরণের কারণে তারা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

এছাড়া চরফ্যাশনের মৎস্য কর্মকর্তা মাছ নদীর বলে যে লিখিত প্রত্যয়ন দিয়েছেন, সেই মাছ ভোলা সদরের মৎস্য কর্মকর্তা সাগরের বলছেন। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন নিজেও জেলা মৎস্য বিভাগের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ৫৮ দিন সমুদ্রে মাছ ধরা নিষিদ্ধ কার্যক্রম বাস্তবায়ন বিষয়ে মন্তব্য করেছেন।

ব্যবসায়ীদের যুক্তি— প্রথমত: সমুদ্রে ৪৭৫ প্রজাতির মাছ রয়েছে। ইলিশ একক প্রজাতির মাছ যা জীবনচক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে নদী ও সমুদ্রে বিচরণ করে এবং নদী, সমুদ্র ও মোহনায় আহরণ করা হয়। বর্তমানে ভোলা জেলার তেঁতুলিয়া ও মেঘনা নদীসহ তৎসংলগ্ন মোহনা এলাকায় ইলিশ পাওয়া যায়। তাছাড়া ইলিশ পরিবহন, মজুদ ও বাজারজাতকরণে কোনো বিধিনিষেধ নাই।

দ্বিতীয়ত: কোনো সামুদ্রিক নৌযানে মাছ ধরা অবস্থায় অথবা সমুদ্র থেকে মাছ ধরে ঘাটে নামানোর সময় জব্দকৃত ইলিশ মাছকেই কেবল সামুদ্রিক মাছ (ইলিশ) হিসেবে বলা যাবে এবং সামুদ্রিক মৎস্য আইন মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।

তৃতীয়ত: যেহেতু শুধু চোখে দেখে নিশ্চিতভাবে নদী বা সমুদ্রের ইলিশ আলাদা করা যায় না, সেহেতু উৎস নিশ্চিত না হয়ে ইলিশ মাছকে সামুদ্রিক মাছ ঘোষণা করা কঠিন (Confusing)।

এ বিষয়ে তারা জেলা প্রশাসকের কাছে অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে যাতে ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ডা: শামীম রহমান বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, জব্দকৃত ইলিশ সাগরের না নদীর, কোস্ট গার্ড সাগর থেকে মাছ জব্দ না করে ভোলা শহর থেকে কেন জব্দ করল এবং জব্দকৃত কোটি টাকার মাছ নিলামে বিক্রি না করে কেন বিভিন্ন ব্যক্তির মাঝে বিতরণ করল— এ নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে ভোলায়। এক কথায় বিষয়টি এখন ‘টক অব দ্য ভোলা’-য় পরিণত হয়েছে।