ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুই দিনে আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ৫৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৮ জন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ডেঙ্গু পরিস্থিতির সামারিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১৩১ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৮৩ জন পুরুষ, ৪২ জন নারী ও ছয়জন শিশু।
চলতি বছর এ পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ২ হাজার ১৭৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে এ সময়ের মধ্যে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৩ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৬৬৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে মাসজুড়েই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর চাপ অব্যাহত রয়েছে।
দুই দিনে মারা যাওয়া তিনজন হলেন—ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার রাশিদা খাতুন (৪২), গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার জাফর আলী (৭০) এবং নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার তাসমিনা আক্তার (৪০)।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, রাশিদা খাতুন ভালুকা উপজেলার নুর হোসেনের স্ত্রী। তিনি গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা ৩০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ হিসেবে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম উল্লেখ করা হয়েছে।
জাফর আলী গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার জৈনা বাজার এলাকার মৃত আব্দুল হোসেনের ছেলে। তিনি ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন ১৪ সেপ্টেম্বর ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ হিসেবে এক্সপ্যান্ডেড ডেঙ্গু সিনড্রোমের সঙ্গে তীব্র শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতা, সেপসিস, সেপটিক শক ও রক্ত জমাট বাঁধার জটিলতা (ডিআইসি) উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে রোববার বেলা ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তাসমিনা আক্তার (৪০)। তিনি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার সাইদুর রহমানের স্ত্রী।
ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন অধ্যাপক ডা: এমদাদুল্লাহ খান বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। প্রতিদিন নতুন করে রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। একই সাথে অনেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে পারে। বিশেষ করে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিলে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠে। তাই জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন।



