কর্মকর্তাসহ ১১টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য

২ জন সমাজকর্মী দিয়ে চলছে তাহিরপুর সমাজসেবা কার্যালয়

‘সমাজসেবা কার্যালয় সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিদিন লোকজন আসে সরকারি সুবিধা পেতে। তাই দ্রুত জনবল সঙ্কট নিরসনের জন্য ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলব।’

মেহেদী হাসান ভূঁইয়া, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)

Location :

Tahirpur
কর্মকর্তা শূন্য সমাজসেবা কার্যালয়
কর্মকর্তা শূন্য সমাজসেবা কার্যালয় |নয়া দিগন্ত

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সমাজসেবা কার্যালয়ে মাত্র দু’জন ইউনিয়ন সমাজকর্মী দিয়ে চলছে সকল কার্যকম। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন জামালগঞ্জ উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা। এদিকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ শূন্য পদগুলোতে জনবল নিয়োগ না দেয়ায় মুখথুবড়ে পড়েছে সকল কার্যক্রম।

সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এ কার্যালয়ে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রতিদিন শত শত লোকজন বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, শিক্ষা ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা নিতে এসে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। দায়সারাভাবে চলছে কার্যালয়টির যাবতীয় কার্যক্রম। ফলে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছে উপজেলার অসহায় মানুষ। তাই জরুরি ভিত্তিতে শূন্য পদগুলো পূরণ করার দাবি জানিয়েছেন অবহেলিত উপজেলার সচেতন মহল।

সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে মোট ১৩টি পদ রয়েছে। তার মধ্যে শুধুমাত্র দু’জন সমাজকর্মী ছাড়া বাকি সব পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। শূন্য পদগুলো হলো— ইউনিয়ন সমাজকর্মী চারজন, কারিগরি প্রশিক্ষক দু’জন, ফিল্ড সুপার ভাইজার একজন, অফিস সহকারী একজন, অফিস সহায়ক একজন, পিয়ন একজন ও নিরাপত্তা প্রহরী একজন।

বর্তমানে এই পদগুলো শূন্য থাকার কারণে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, শিক্ষা ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও বিভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণসহ যাবতীয় কার্যক্রমে চরম ব্যঘাত ঘটছে।

হাওরবেষ্টিত দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের পাটাবুকা গ্রামের বাসিন্দা আমিন মিয়া, মো: জলিল মিয়াসহ অনেকেই বলেন, উপজেলা সমাজসেবা অফিসে নাকি জনবল কম, ফলে দিনভর কষ্ট করে টাকা আর সময় নষ্ট হওয়া ছাড়া আর কোনো কাজ হয় না। গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়টির বেহাল অবস্থা দেখার মতো কেউ নাই।

উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকার চারাগাও, লালঘাট থেকে সমাজসেবা কার্যালয়ে আগত শাপলা বেগম, হুসনা বেগমসহ অনেকেই বলেন, অফিস সহকারী ও আরেজন আছে। এই দুইজন ছাড়া কর্মকর্তাসহ কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না। কাগজপত্র নিয়ে প্রতিদিন অনেকেই আসে কিন্তু কাজ হয় না।

দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আহমদ মোরাদ জানান, কর্মকতাসহ জনবল সঙ্কট থাকায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানে আগত বিভিন্ন এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। দ্রুত কর্মকর্তাসহ জনবল নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত্য) সাব্বির সারোয়ার বলেন, ‘আমি জামালগঞ্জ উপজেলার দায়িত্বে। জনবল না থাকায় আমি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি তাহিরপুরসহ আরেকটি উপজেলার। যার জন্য সময় মতো উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষের কাজ করে দিতে পারছি না। শূন্য পদগুলোর বিষয়ে আমি আমার উপরস্থ কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।’

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: মেহেদী হাসান মানিক বলেন, ‘সমাজসেবা কার্যালয় সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিদিন লোকজন আসে সরকারি সুবিধা পেতে। তাই দ্রুত জনবল সঙ্কট নিরসনের জন্য ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলব।’

সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ‘জনদুর্ভোগ লাঘবের জন্য যেসব প্রতিষ্ঠানে জনবল সঙ্কট রয়েছে সেসব প্রতিষ্ঠানের জনবল সঙ্কট দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’