জাজিরায় জামায়াত নেতা ও সাংবাদিকের ওপর বিএনপির হামলার অভিযোগ

এ বিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি একজন গণমাধ্যমকর্মীকে মারধর করেছে বলে জানতে পেরেছি। আমি হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় কারো কাছ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ এখন পর্যন্ত পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Location :

Munshiganj
আহত সংবাদকর্মীকে উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়
আহত সংবাদকর্মীকে উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয় |নয়া দিগন্ত

শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা

শরীয়তপুরের জাজিরায় ৫ আগস্ট জুলাই অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ ওঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ সময় হামলার ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় স্থানীয় এক সাংবাদিককে মারধর করে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে জাজিরা উপজেলা মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিক ও জনসাধারণকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে উপজেলা মডেল মসজিদে গণমিছিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করে জাজিরা উপজেলা জামায়াতের নেতাকর্মীরা। একই সময়ে নিকটবর্তী স্থান টিঅ্যান্ডটি মোড় এলাকায় কর্মসূচি পালন করে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। জামায়াত তাদের গণমিছিলের শুরুতে নেতাকর্মীদের জন্য অপেক্ষা কালে, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতাকর্মী হঠাৎ মডেল মসজিদ এলাকায় প্রবেশ করে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়।

এ সময় হামলার ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন সাংবাদিক জুয়েল মিয়া। বিষয়টি দেখতে পেয়ে তার ওপর হামলা চালায় বিএনপিকর্মীরা। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন।

এ বিষয়ে শরীয়তপুর জেলা জামায়াতে আমির আব্দুর রব হাসেমী বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে মডেল মসজিদ এলাকায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আনুষ্ঠানের আয়োজন করি। বিএনপিও তাদের নির্ধারিত জায়গায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আমরা যখন গণমিছিলের জন্য মসজিদের সামনে আমাদের নেতা-কর্মীদের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। হঠাৎ করেই বিএনপির লোকজন এসে আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়।’

তিনি বলেন, ‘হামলায় আমাদের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। বিএনপি যেটা করেছে সেটা অন্যায়, এটা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান। আজকের হামলার নেপথ্যে ছিল পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মিলন। আমরা এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

ভুক্তভোগী সাংবাদিক জুয়েল মিয়া বলেন, ‘আমি পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলাম। হঠাৎ করে কিছু লোকজন মডেল মসজিদ এলাকায় এসে হাঙ্গামা তৈরি করে ও হামলা চালায়। আমি সেই হামলার ভিডিও ধারণ করার সময় কয়েকজন হামলাকারী আমাকে মারধর করে। আমি এ ঘটনার বিচার দাবি করছি। এ ঘটনার জন্য আমি আইনি প্রক্রিয়ায় লড়বো।

এ বিষয়ে শরিয়তপুর জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন রবিন বলেন, ‘জাজিরা উপজেলায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক জুয়েল মিয়ার ওপর হামলা ও মারধরের বিষয়টি জেনেছি। এ ঘটনাটি গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। একজন সাংবাদিক যখন জনস্বার্থে তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণের দায়িত্ব পালন করেন, তখন তার ওপর হামলা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আক্রমণ নয়, এটি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনগণের তথ্য জানার সাংবিধানিক অধিকারের ওপর আঘাত।’

তিনি বলেন, ‘শরীয়তপুর প্রেসক্লাব এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শের আড়ালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেয়ার অপচেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি একজন গণমাধ্যমকর্মীকে মারধর করেছে বলে জানতে পেরেছি। আমি হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় কারো কাছ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ এখন পর্যন্ত পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’