তাহিরপুর নেদারল্যান্ডস সরকারের অর্থ্যায়নে নির্মিত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধ

অর্থ বরাদ্দ না থাকায় স্কুলগুলো বন্ধ হয়ে যায়। যার জন্য ভবনগুলো এভাবেই পড়ে রয়েছে। অর্থ বরাদ্ধ পেলে বিদ্যালয়গুলো আবারও চালু হবে।

মেহেদী হাসান ভূঁইয়া, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)

Location :

Tahirpur
বন্ধ স্কুল
বন্ধ স্কুল |নয়া দিগন্ত

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে নেদারল্যান্ডস সরকারের অর্থ্যায়নে নির্মিত ১৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে স্থাপিত বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা করে এফআইভিডিবি। ওই বিদ্যালয়গুলোতে অর্থ বরাদ্দ না দেয়ায় বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকরাও বেকার হয়ে পড়েন। বিদ্যালয়গুলোর মূল্যবান জিনিসপত্র খুলে নিয়ে যাচ্ছেন অনেকে।

সচেতন মহল বলছেন, এই বিদ্যালয়গুলো চালু হলে এর আশপাশের বাসিন্দাদের ছেলে মেয়েদেরকে কষ্ট করে কয়েক কিলোমিটার দূরের সরকারি স্কুলে যেতে হতো না, পাশাপাশি এই স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ দিলে শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছেন সচেতন মহল ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে এই স্কুলগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল ২০০৪ সালের দিকে স্থানীয় ধর্ন্যাঢ্য ব্যক্তি ও দানবীরদের দানের জায়গায়। কোনোটি হাওর পাড়ের গ্রামে আবার কোনোটি উঁচু জমিতে। পরে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান হতো আর প্রতি বিদ্যালয়ে শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী ছিল। এ সময় বেশ ভালো ভাবেই স্কুলে ছাত্রছাত্রী আসতো, লেখাপড়াও হত।

কয়েক বছর ভালো ভাবে চললেও অর্থ বরাদ্দ না দেয়ায় সেগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে এই স্কুল গুলোর আশপাশের শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করার জন্য পায়ে হেঁটে কয়েক কিলোমিটার দূরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায়। অনেকেই আবার পড়াশুনা বন্ধ করে দেয়। আর এখানে কর্মরত শিক্ষকগণও দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থেকে বিকল্প কর্মসংস্থান খুঁজ নিয়েছেন। অনেকেই অপেক্ষায় আছেন স্কুলগুলো আবার চালু হবে আবারও কাজে যোগ দিবেন।

তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানায়, লোভার হাওর পাড়ে স্কুলটি চালু ছিল কিন্তু হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় গত ৭-৮ বছর পূর্বে। আবারও স্কুলটি চালু হলে এই গ্রামের শিশুরা লেখা পড়া করা অনেক সহজ হতো। দীর্ঘদিন ধরে তা আর হচ্ছে না। পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

এই স্কুলে কর্মরত সাবেক শিক্ষিকা ও রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা নিরালা বেগম জানান, দীর্ঘদিন এই স্কুলে শিক্ষক হিসেবে তিনটি গ্রামের শতাধিক শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেছিলাম। ২০১৩ সালের দিকে স্কুলটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে কিছু দিন নিজে নিজেই চালিয়ে ছিলাম যেন আবারও স্কুলটি চালু হয় কিন্তু আর হয়নি। এরপর থেকে আর কেউ যোগাযোগও করেনি। আশায় আছি যদি আবারও স্কুলটি চালু হয়, তাহলে আবারও পাঠদান শুরু করবো।

সুনামগঞ্জ এফআইভিডিবি রিজওনাল ম্যানেজার সালাহ উদ্দীন জানিয়েছেন, অর্থ বরাদ্দ না থাকায় স্কুলগুলো বন্ধ হয়ে যায়। যার জন্য ভবনগুলো এভাবেই পড়ে রয়েছে। অর্থ বরাদ্ধ পেলে ঐসব বিদ্যালয়গুলো আবারও চালু হবে।