ঘাতক রেশমি গ্রেফতার ও স্বীকারোক্তি

আলীকদমে প্যারালাইজড বৃদ্ধা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন

বান্দরবানের আলীকদমে পক্ষাঘাতগ্রস্ত (প্যারালাইজড) বৃদ্ধা রহিমা বেগম (৬৫) হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদ্ধার করেছে পুলিশ। শয্যাশায়ী শাশুড়িকে নিজের হাতে গলা কেটে হত্যার পর উল্টো স্বামী ও সতিনের ওপর দোষ চাপাতে নাটক সাজিয়েছিলেন ছেলের বউ ইয়াসমিন আক্তার রেশমি (২৭)।

মমতাজ উদ্দিন আহমদ, আলীকদম (বান্দরবান)

Location :

Bandarban
আলীকদমে প্যারালাইজড বৃদ্ধা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন
আলীকদমে প্যারালাইজড বৃদ্ধা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন |নয়া দিগন্ত

বান্দরবানের আলীকদমে পক্ষাঘাতগ্রস্ত (প্যারালাইজড) বৃদ্ধা রহিমা বেগম (৬৫) হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদ্ধার করেছে পুলিশ। শয্যাশায়ী শাশুড়িকে নিজের হাতে গলা কেটে হত্যার পর উল্টো স্বামী ও সতিনের ওপর দোষ চাপাতে নাটক সাজিয়েছিলেন ছেলের বউ ইয়াসমিন আক্তার রেশমি (২৭)। তবে পুলিশের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে প্রকৃত সত্য।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ঘাতক রেশমিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘাতক রেশমির স্বামী হাফেজ আব্দুর রহমান রানা স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষক। ২০১১ সালে ইয়াসমিন আক্তার শমির সাথে তার বিয়ে হয় এবং তাদের তিনটি সন্তান রয়েছে। বছর দুই আগে রানা দ্বিতীয় বিয়ে করলে পারিবারিক কলহ চরম আকার ধারণ করে।

এ নিয়ে রেশমি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে মামলাও করেছিলেন। ৫-৬ মাস আগে মামলা আপসের শর্তে রেশমি চকরিয়া থেকে পুনরায় স্বামীর ঘরে ফিরে আসেন।

হত্যাকাণ্ডের দিন গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে সতিনের ইন্ধনে আব্দুর রহমান রানা রেশমিকে মারধর করেন এবং দা নিয়ে তাড়া করে খুনের হুমকি দেন। এতে ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিত হয়ে রেশমি সিদ্ধান্ত নেন স্বামী ও সতিনকে উচিত শিক্ষা দেয়ার।

শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রেশমি নিজের স্বামী ও সতিনকে খুনের মামলায় ফাঁসানোর জন্য রান্নাঘর থেকে দা নিয়ে আসেন। এরপর নিজ কক্ষে শয্যাশায়ী পক্ষাঘাতগ্রস্ত বৃদ্ধা শাশুড়ি রহিমা বেগমকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করেন। হত্যার পর অপরাধ ঢাকতে তিনি নিজেই ৯৯৯-এ এবং পরে তার শ্বশুরকে ফোন করে জানান যে, কে বা কাহারা শাশুড়িকে মেরে ফেলেছে।

সংবাদ পেয়ে আলীকদম থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ উদ্ধার করে। সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রেশমিকে থানায় নেয়া হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন যে, স্বামী ও সতিনকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেই তিনি একাকী এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আবু তালেব (৭৪) বাদি হয়ে আলীকদম থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নম্বর-৫, তারিখ: ১৫/০২/২০২৬, ধারা: ৩০২/৩৪ দণ্ডবিধি) দায়ের করেছেন।

আলীকদম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন শাহ জানান, আসামি ইয়াসমিন আক্তার রেশমি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তাকে আজ রোববার দুপুরে যথাযথ পুলিশ পাহারায় বান্দরবান চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।