রূপগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ-গোলাগুলিতে আহত ১৬

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অটোরিকশা সাইড দেয়াকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে উভয় পক্ষের ১৬ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা

Location :

Rupganj
রূপগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুগ্রুপের সংঘর্ষ-গোলাগুলিতে আহত ১৬
রূপগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুগ্রুপের সংঘর্ষ-গোলাগুলিতে আহত ১৬ |নয়া দিগন্ত

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অটোরিকশা সাইড দেয়াকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে উভয় পক্ষের ১৬ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় উভয় পক্ষ একে অপরের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বরুনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ আগে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সাইড দেয়া নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলামের ভাই আমিন হোসেনের সাথে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক বিল্লাল হোসেন খাঁর কথা কাটাকাটি হয়। ওই ঘটনায় বিল্লাল হোসেন রূপগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

পূর্ব নির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সোমবার দুপুরে বরুনা এলাকায় বিষয়টি মীমাংসার জন্য বিচার সালিশের আয়োজন করা হয়। সালিশে রফিকুল ইসলাম ও বিল্লাল হোসেন তাদের অনুসারীদের নিয়ে উপস্থিত হন।

বিচার চলার সময় উভয় পক্ষ বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লে একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় বিল্লাল হোসেনের লোকজন বেশ কয়েক রাউন্ড ফাকা গুলিবর্ষণ করে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করে।

সংঘর্ষ চলাকালে হামলাকারীরা একে অপরের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাট করে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৬ নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, বিল্লাল হোসেন খাঁ ও তার বাহিনী পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং গুলিবর্ষণ করেছে।

অপরদিকে, বিল্লাল হোসেন খাঁ পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘রফিকুল ইসলামের লোকজনই বিচারে এসে অতর্কিত হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে।’

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন জানান, ‘খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’