সতীন ও স্বামীর পৈশাচিকতা

ঘিওরে চুল কেটে বিষ খাইয়ে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে আটক ২

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বড় পয়লা গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে সখিনা বেগম (৫০) নামে এক গৃহবধূকে পৈশাচিক কায়দায় হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও সতীনের বিরুদ্ধে।

আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর (মানিকগঞ্জ)

Location :

Ghior
ঘিওরে চুল কেটে বিষ খাইয়ে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে আটক ২
ঘিওরে চুল কেটে বিষ খাইয়ে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে আটক ২ |নয়া দিগন্ত

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বড় পয়লা গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে সখিনা বেগম (৫০) নামে এক গৃহবধূকে পৈশাচিক কায়দায় হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও সতীনের বিরুদ্ধে।

নিহতের স্বামী সাইফুল ইসলাম ও তার তৃতীয় স্ত্রী সাবিনা মিলে সখিনাকে শারীরিক নির্যাতনের পর মাথার চুল কেটে এবং শরবতের সাথে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে হত্যা করেছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাইফুল ইসলাম সম্প্রতি তৃতীয় বিয়ে করার পর থেকেই দ্বিতীয় স্ত্রী সখিনার সাথে তার বিরোধ তুঙ্গে ওঠে। এই কলহের জেরে সোমবার রাত থেকেই সখিনার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায় সাইফুল ও তার নববিবাহিত স্ত্রী সাবিনা।

নির্যাতনের একপর্যায়ে সখিনার মাথার চুল কেটে তাকে চরমভাবে অপদস্থ করা হয়।

মঙ্গলবার সকালে সখিনা পানি পান করতে চাইলে অভিযুক্তরা কৌশলে পানির বদলে বিষমিশ্রিত শরবত তাকে পান করায়। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পথেই সখিনার মৃত্যু হয়।

নিহতের মেয়ে যুথী আক্তার জানান, শরবতের সাথে আমার মাকে বিষ মিশিয়ে খাওয়ায়। ওই শরবত খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই মুখ দিয়ে ফেনা বের হয় এবং হাসপাতালে নেয়ার পথে আমার মা মারা যায়। এ ঘটনার উপযুক্ত বিচার চাই।

ঘটনার পরপরই ঘিওর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘাতক স্বামী সাইফুল ইসলাম ও তার তৃতীয় স্ত্রী সাবিনাকে গ্রেফতার করেছে।

ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।