ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হামের ভয়াবহতা

রোববার দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে ৫৬০ শিশু ভর্তি রয়েছে। এদের মধ্যে গত ১২ দিনে ১০৬ জন শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম, ময়মনসিংহ

Location :

Mymensingh
হামের রোগীরা
হামের রোগীরা |নয়া দিগন্ত

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ময়মনসিংহের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও আক্রান্ত শিশুদের ঢল নামছে এ হাসপাতালে।

রোববার (২৯ মার্চ) দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে ৫৬০ শিশু ভর্তি রয়েছে। এদের মধ্যে গত ১২ দিনে ১০৬ জন শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

সর্বশেষ শনিবার রাতে মারা যাওয়া দুই শিশু হলো—ময়মনসিংহ সদরের চরগুবদিয়া এলাকার আব্দুর রহিমের সাত মাস বয়সী ছেলে লিয়ন ও কলমাকান্দা উপজেলার সারারকোণা গ্রামের আয়নাল হোসেনের ছয় মাস বয়সী ছেলে নুর নবী। এর আগে ১৮ মার্চ গৌরীপুরের কলতাপাড়া এলাকার চার মাস বয়সী ওয়াজকুরুনি, ২৬ মার্চ নগরের নওমহলের তিন বছর বয়সী তনুসা এবং একই দিন পুলিশ লাইনস এলাকা থেকে ভর্তি হওয়া দুই বছর বয়সী সামিয়ার মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, আক্রান্তদের মধ্যে গুরুতর ৮৫ শিশুকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে ৪৭ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিশু বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা: গোলাম মওলার নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে শিশু বিভাগের ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে শয্যাসঙ্কট চরমে পৌঁছেছে। অনেক ক্ষেত্রে এক বিছানায় দুই শিশুকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এমনকি হাম আক্রান্ত শিশুদের সাধারণ রোগীদের সাথেও রাখা হচ্ছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের কলাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা শাহানাজ বেগম বলেন, ‘শিশুর জন্মের পর সব টিকা দিয়েছি। তারপরও আমার ছেলে হামে আক্রান্ত হয়েছে।’

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাম ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। হাঁচি-কাশি, কথা বলা কিংবা সংস্পর্শের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখ ও মস্তিষ্কে প্রদাহসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিচ্ছে, যা মৃত্যুঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

শিশু বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা: মাজহারুল আমিন বলেন, ‘টিকা নেয়া ও না নেয়া—উভয় ধরনের রোগীই পাওয়া যাচ্ছে। আলাদা কর্নার করা হলেও স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় শতভাগ আইসোলেশন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।’

শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা: আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘টিকাদানে ঘাটতিই এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ। আক্রান্তদের আলাদা রাখার চেষ্টা চলছে।’

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, ‘দেশজুড়ে হামের প্রকোপ বেড়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আইসোলেশন সুবিধা বাড়ানো হবে।’ তিনি আরো জানান, ৮ নম্বর ওয়ার্ডকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রূপান্তরের প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে ময়মনসিংহের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা: ফয়সল আহমেদ জানিয়েছেন, জেলার ১৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আলাদা বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি বহির্বিভাগে শিশুদের জন্য ডেডিকেটেড ফিভার ক্লিনিক চালু করা হয়েছে।

অভিভাবকদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা ও আক্রান্তদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান তিনি।