রাজশাহীতে চলন্ত ট্রেনের ওয়াগন থেকে তেল চুরি, ভিডিও ভাইরাল

প্রায় তিন মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, হরিয়ান স্টেশনে ট্রেনটি ধীরগতিতে চলার সময় কয়েকজন যুবক জগের মাধ্যমে ওয়াগন থেকে তেল তুলে জারে ঢালছেন। পরে জারগুলো ওয়াগনের নিচে নামিয়ে দেয়া হচ্ছে।

রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহীর হরিয়ান রেলওয়ে স্টেশনে চলন্ত ট্রেনের ওয়াগন থেকে তেল চুরির অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে ‘ঢাকা মেল সিক্স ডাউন’ ট্রেনে সংযুক্ত দুটি ওয়াগনের একটি থেকে তেল সরিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ছয়জনকে তেল চুরি করতে দেখা গেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তদন্ত শুরু করেছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

প্রায় তিন মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, হরিয়ান স্টেশনে ট্রেনটি ধীরগতিতে চলার সময় কয়েকজন যুবক জগের মাধ্যমে ওয়াগন থেকে তেল তুলে জারে ঢালছেন। পরে জারগুলো ওয়াগনের নিচে নামিয়ে দেয়া হচ্ছে।

ট্রেন চলতে শুরু করার পরও কয়েকজনকে তেলের জার নিয়ে ওয়াগন থেকে নামতে দেখা যায়। তবে এ ঘটনায় কী পরিমাণ তেল চুরি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে আন্তনগর ঢাকাগামী ট্রেনের পাওয়ার কারে ব্যবহারের জন্য তেল আনা হয়েছিল। তেল সরবরাহের পর দুটি ওয়াগন ‘ঢাকা মেল সিক্স ডাউন’ ট্রেনের সঙ্গে সংযুক্ত করে ঈশ্বরদীতে নেয়া হচ্ছিল। লোকাল ট্রেন হওয়ায় ‘ঢাকা মেল সিক্স ডাউন’ হরিয়ান স্টেশনে যাত্রাবিরতি করলে ওই সুযোগে ওয়াগন থেকে তেল সরিয়ে নেয়া হয় বলে অভিযোগ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হরিয়ান রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তেল চুরি হয়ে আসছে। স্টেশন ও আশপাশে একটি চক্র এ কাজে জড়িত। স্থানীয় হরিয়ানা বাজারের হায়দার আলী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চোরাই তেল কেনাবেচায় জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। মঙ্গলবারের ঘটনায় তার ছেলেকেও ঘটনাস্থলে দেখা গেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, তেল চুরির ঘটনায় রেলওয়ের ওয়েম্যান কিরন আলী, তার ভাই নয়ন আলী, মিলন, আল-আমিন, নাহিদ ও রক্সির নাম উঠে এসেছে। তাদের বাড়ি হরিয়ান স্টেশনের আশপাশে। কিরন আলী নেসকোর কাটাখালী বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে টিএলআর ওয়েম্যান হিসেবেও কর্মরত বলে জানা গেছে।

তবে ওয়েম্যান কিরন আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভিডিওতে তার মতো দেখতে যে ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে, তিনি তার ছোট ভাই নয়ন আলী। ঘটনার সময় তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন।

হরিয়ান রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার আরিফ হোসেন বলেন, ‘ঢাকা মেল সিক্স ডাউন’ ট্রেনটি স্টেশনে মাত্র তিন মিনিট থামে। ওই সময় পাবনা থেকে ঢালারচর এক্সপ্রেস ট্রেন আসছিল। দুই ট্রেনের ক্রসিং নিয়ে তিনি ব্যস্ত ছিলেন। এর মধ্যেই তেল চুরির ঘটনা ঘটে। স্টেশনের নিরাপত্তা ও এ ধরনের বিষয় দেখভালের দায়িত্ব রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) ও রেলওয়ে পুলিশের বলে জানান তিনি।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের আরএনবির চিফ কমান্ড্যান্ট আশাবুল ইসলাম বলেন, তেল চুরির ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়েছিল। তবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা করা হবে এবং অভিযুক্তদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, তেল চুরির ভিডিওটি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা বাইরের কেউ-যেই জড়িত থাকুক, তদন্তে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।