পার্বত্য চট্টগ্রামে উৎপাদিত কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়নে মিনি (কুলবট) কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাই করতে রাঙ্গামাটিতে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কৃষকদের উৎপাদিত ফলমূল ও সবজি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার সমস্যা কমিয়ে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের এনেক্স ভবনে ‘মিনি (কুলবট) কোল্ড স্টোরেজ সম্ভাব্যতা যাচাই কর্মশালা–২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম আইএলও প্রজেক্ট অফিসের হেড অ্যালেক্সিউস চিছাম। তিনি সৌরশক্তি ব্যবহার করে কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের প্রকল্পের ধারণা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের ফলমূল উৎপাদন হলেও সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে কৃষকরা প্রায়ই ক্ষতির সম্মুখীন হন। কৃষকদের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে উৎপাদিত ফলমূল সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে তারা উপকৃত হবেন—এটাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
কর্মশালায় মিনি কোল্ড স্টোরেজ (কুলবট) স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইকারী কনসালটেন্ট টিম মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তাদের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর অনুষ্ঠিত মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, কুলবট প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষিপণ্য স্বল্প সময়ে (৭ থেকে ১৫ দিন) সংরক্ষণ করা সম্ভব, ফলে সুবিধাজনক সময়ে বাজারে বিক্রি করে কৃষকরা প্রায় দ্বিগুণ মূল্য পেতে পারেন। এ ধরনের প্রযুক্তি পার্বত্য চট্টগ্রামের কৃষিপণ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে বলেও তারা মত দেন।
কর্মশালায় তিন পার্বত্য জেলায় পাইলট ভিত্তিতে মিনি কোল্ড স্টোরেজ (কুলবট) স্থাপন, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনায় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সহযোগিতায় তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন ProGRESS Project-এর আওতায় কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ এখানকার জনগোষ্ঠীর জন্য সুফল বয়ে আনবে।
তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে কৃষিপণ্য দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা অনেক সময় ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন। মিনি (কুলবট) কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা গেলে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ সহজ হবে এবং কৃষক ও উদ্যোক্তারা সুবিধাজনক সময়ে বাজারজাত করতে পারবেন।
তিনি আরো বলেন, এশিয়ার পর্যটনসমৃদ্ধ দেশ নেপালে এ ধরনের মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও আয়ের উৎস সৃষ্টি হয়েছে। স্বল্প খরচে ফলমূল ও সবজি সংরক্ষণে এই প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই আইএলও-এর পাইলট প্রকল্পকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ আধুনিক প্রযুক্তিগত সুবিধা ভোগ করতে পারবে। এজন্য তিন পার্বত্য জেলা পরিষদকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। তিনি বলেন, তিন পার্বত্য জেলার কৃষক, কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষি উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কোল্ড স্টোরেজ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ধারণা ও অভিজ্ঞতা দেয়া গেলে প্রকল্পটি সফল করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি রাঙ্গামাটিতে কচুরিপানার ওপর ভাসমান শাকসবজি উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
কর্মশালাটি যৌথভাবে আয়োজন করে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)।
এতে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট পরিষদের কর্মকর্তা, সদস্যবৃন্দ, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা, বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তারা অংশ নেন।



