সাংবাদিককে মারধর, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ

লালমনিরহাটে চাঁদার টাকা না দেয়াকে কেন্দ্র করে এক সাংবাদিককে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা রশিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

সাব্বির আহমেদ লাভলু, লালমনিরহাট

Location :

Lalmonirhat
লালমনিরহাট সদর থানা
লালমনিরহাট সদর থানা |নয়া দিগন্ত

লালমনিরহাটে চাঁদার টাকা না দেয়াকে কেন্দ্র করে মো: রাসেল হক (৩০) নামে এক সাংবাদিককে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা রশিদুল ইসলাম এবং তার ছেলে শামীম মিয়ার বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ১০ থেকে ১২ জনকে অভিযুক্ত করে লালমনিরহাট সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই সাংবাদিক।

অভিযোগ অস্বীকার করে রশিদুল ইসলাম বলেছেন, ‘তিনি সাংবাদিক রাসেল হকের কাছে কোনো চাঁদা দাবি করেননি এবং হামলার ঘটনার সাথেও তার সম্পৃক্ততা নেই।’

রাসেল হক বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের লালমনিরহাট জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক এবং দৈনিক দাবানল পত্রিকার সাংবাদিক। হামলায় আহত হয়ে তিনি বর্তমানে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

রাসেলের অভিযোগ, প্রায় এক বছর ধরে রশিদুল ইসলাম বিভিন্ন মাধ্যমে তার কাছে ৫০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকা দাবি করে আসছিলেন। টাকা না দিলে এলাকায় থাকতে না দেয়া, হাত-পা ভেঙে দেয়া এবং রাজনৈতিক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়া হতো বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরো জানান, চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়েছে। মামলা দুটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

লিখিত অভিযোগে রাসেল উল্লেখ করেন, ১১ আগস্ট বিকেলে সংবাদ সংগ্রহ শেষে সহকর্মী দুর্জয় চন্দ্র রায় ও সাধন চন্দ্র রায়ের সাথে লালমনিরহাট রেলওয়ে মুক্তমঞ্চ এলাকায় বসে ছিলেন তিনি। এ সময় রশিদুল ইসলাম, তার ছেলে শামীম মিয়াসহ ১০ থেকে ১২ জন মোটরসাইকেলে সেখানে উপস্থিত হন।

অভিযোগ অনুযায়ী, রশিদুল ও শামীম তাকে ধরে ৭৫ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে রশিদুল তার বুকের ওপর বসে পড়েন এবং শামীম গলা চেপে ধরেন বলে অভিযোগ করেন রাসেল। তার দাবি, এ সময় তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়।

পরে চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাসেল হক বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে নানা ধরনের হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। চাঁদার টাকা না দেয়ার কারণেই সর্বশেষ তাকে মারধর করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রশিদুল ইসলাম। তার দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে রাসেল হক নিজেই ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ভয়ভীতি দেখাতেন এবং চাঁদাবাজি করতেন। বর্তমান অভিযোগের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব রংপুর বিভাগের সভাপতি এস আর শরিফুল ইসলাম রতন হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

সদর থানার ওসি সাদ আহমেদ বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। উভয় পক্ষ থেকেই থানায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’