পটুয়াখালীর পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত তীরে ভেসে এসেছে প্রায় ৫৬ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি মৃত বেলিন প্রজাতির তিমি। বিশাল আকৃতির এ তিমিটির প্রস্থ প্রায় ১৮ ফুট বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘ দুই যুগে কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে আসা মৃত তিমির মধ্যে এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম বলে দাবি স্থানীয় পরিবেশকর্মীদের।
সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে সৈকতের কাউচার পয়েন্ট এলাকায় তিমিটি ভেসে আসে। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের (উপরা) সদস্যরা। সৈকতে এমন বিশাল আকৃতির মৃত তিমি দেখতে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়।
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, তিমিটির শরীর অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল। তাদের প্রাথমিক ধারণা, প্রায় এক সপ্তাহ আগে বঙ্গোপসাগরের গভীরে তিমিটির মৃত্যু হয়েছে। পরে জোয়ারের স্রোতে এটি কুয়াকাটা উপকূলে ভেসে আসে।
তিনি আরো বলেন, চলতি বছরই কুয়াকাটা সৈকতে প্রায় ৫৮ ফুট দৈর্ঘ্যের আরো একটি মৃত তিমি ভেসে এসেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে উপকূলে তিমি ও ডলফিনের মৃতদেহ ভেসে আসার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এসব প্রাণীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে দ্রুত বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানান তিনি।
মহিপুর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, দুর্গন্ধ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মৃত তিমিটিকে সৈকতের নির্ধারিত স্থানে মাটিচাপা দেয়া হয়েছে। পরে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়দের মতে, কুয়াকাটা উপকূলে মাঝে মধ্যেই সামুদ্রিক প্রাণীর মৃতদেহ ভেসে এলেও এত বড় আকৃতির তিমি খুব কমই দেখা যায়। এ ঘটনায় উপকূলজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।



