সিলেটে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, গ্রেফতার ৭

শুক্রবার (১৭ জুলাই) ভোরে নগরীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের একটি ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এ ঘটনায় শনিবার (১৮ জুলাই) পুলিশ ৫১ জনকে আসামি করে এয়ারপোর্ট থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করে।

এমজেএইচ জামিল, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাত কর্মী গ্রেফতার
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাত কর্মী গ্রেফতার |নয়া দিগন্ত

সিলেট নগরীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার (১৯ জুলাই) পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। সাতজনের মধ্যে তিনজন এজাহারভুক্ত আসামি এবং চারজন সন্দেহভাজন আসামি। তারা সকলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেফতার সাতজন হলেন— সুবাস চন্দ্র দাস (৩২), মো: শাহনুর আলী (৪২), মো: শাকিল (২০), মুয়াদ আহমদ মাহিব (২৪), শাহারিয়ার হোসেন রাহাদ (২২), মো: সাগর আহমদ (২৬) ও সাব্বির আহমেদ শাকিল। তারা সকলেই সিলেট মহানগরীর টিলাগড় এলাকার রঞ্জিত সরকারের গ্রুপের অনুসারী এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতাকর্মী বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) এর সত্যতা নিশ্চিত করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ মনজুরুল আলম বলেন, শুক্রবার (১৭ জুলাই) ভোরে নগরীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের একটি ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এ ঘটনায় শনিবার (১৮ জুলাই) পুলিশ ৫১ জনকে আসামি করে এয়ারপোর্ট থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করে। মামলায় ২৬ জনের নাম উল্লেখ ও ২৫ জনকে অজ্ঞাত পরিচয় আসামি করা হয়।

এরপর শনিবার ও রোববার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার ভোর আনুমানিক ৬টা ১০ মিনিট থেকে ৬টা ২০ মিনিট পর্যন্ত এয়ারপোর্ট থানাধীন শাহী ঈদগাহস্থ ইমাম প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমির সামনের প্রধান সড়ক থেকে শুরু হয়ে টিবি গেট, পূর্ব শাহী ঈদগাহ হয়ে শাহজালাল প্রফেশনাল কলেজ পর্যন্ত মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে আনুমানিক ২৫-৩০ জন নেতাকর্মী অংশ নেন। মিছিল শেষে তারা পাঁচ-ছয়টি মোটরসাইকেলে করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এ ঘটনায় আম্বরখানা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই (নিরস্ত্র) রফিকুল ইসলাম এয়ারপোর্ট থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছাত্রলীগের ২৬ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখের পাশাপাশি আরো ২৫ জনকে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে উল্লেখিত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সৈয়দ সোহাগ (২৬), সৈয়দ সবুজ (৩৫), আহমেদ উদ্দিন সাজন (২৮), আসিফ শাহী (৩০), ফয়সল (২৯), মো: শাহ নূর আলী (৪০), আবির হোসেন (২০), রায়হান আহমদ (২১), রনি (২৪), শাকিল (২০), সুবাশ দাশ, নব মুসলিম (উরফে আব্দুল্লাহ) (২৮), কুদ্দুস মিয়া (২৮), ইয়াসিন (২২), রুহান হোসেন (২৫), জাহান চৌধুরী (২৯), রুমায়েল আহমদ (২৮), আকিব আহমদ (২৭), রায়হান খান রুহান (২৮), অনিক অন্ত (২৮), সাদিক আহমদ (২৮), সাগর (২৬), রাসেদুল ইসলাম (২৬), মিজানুর রহমান (২৯), রিয়াজ আহমদ (৩০), শোয়েব আহমেদ (৩০), রবিন মিয়া (২৮) ও তাদের সহযোগী অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনসহ মোট ৫১ জন।