আগামী দুই মাসের মধ্যে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২০ বেডের আইসিইউ এবং এক মাসের মধ্যে পুরো হাসপাতাল সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার ঘোষণা দিলেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং হাসপাতালটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আসাদুল হাবিব দুলু।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে হাসপাতাল পরিদর্শনের পর এই ঘোষণা দেন তিনি। এর আগে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও সেবা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন।
এ সময় তার সাথে ছিলেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, সিটি প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন প্রমুখ।
পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী দুলু বলেন, ‘আমরা আগামী দুই মাসের মধ্যে এখানে যে ১০টি আইসিইউ বেড রয়েছে, সেটির সাথে আরও ১০টি সংযুক্ত করব। অর্থাৎ ২০টি বেডে এখানে আইসিইউ চালু থাকবে। এখানে কেবিনের যে সমস্যাটা তুলে ধরা হয়েছে, কেবিনের অ্যাটেনডেন্টের কোনো থাকার জায়গা নেই, বেড নেই—এটিকে আমরা সমাধান করছি। এখন থেকে একজন করে অ্যাটেনডেন্ট রোগীর সঙ্গে থাকতে পারবে। অপারেশনের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে অ্যানেস্থেসিয়ার সংকটের কারণে সব সময় অপারেশন চালু থাকে না; যার কারণে রোগীরা অনেক সময় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ে যায় বা মৃত্যুবরণ করে। সেটিকে আমরা সর্বক্ষণিক চালু রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। এখানে প্রয়োজনীয় জনবল যুক্ত করা হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এখানে অনেক অনিয়ম রয়েছে। আপনারা জানেন যে লাশ পরিবহনের ক্ষেত্রে একটি সিন্ডিকেট কাজ করে। আমি নির্দেশনা দিয়ে গেছি যে কতটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে তার তালিকা রাখতে হবে, মাইলেজ অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে এবং চালানের মাধ্যমে টাকা দিতে হবে। এ ব্যাপারে একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। তারা তিন পক্ষের সাথে আলোচনা করবে—অ্যাম্বুলেন্সের মালিক বা চালক, আমাদের সিটি করপোরেশন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেই অনুযায়ী এটি পরিচালিত হবে।”
মন্ত্রী দুলু বলেন, এখানে কোনো সিসি ক্যামেরা নেই। এত বড় একটি হাসপাতালে সিসি ক্যামেরা নেই! এটাকে জরুরি ভিত্তিতে আমি নির্দেশনা দিয়েছি আগামী এক মাসের ভেতরে যাতে সিসি ক্যামেরার আওতায় গোটা হাসপাতালটাকে নিয়ে আসা হয়। রাতের বেলায় অনেক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, দুষ্কৃতকারীরা ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত থাকে। সেজন্য বলা হয়েছে আগামী সাত দিনের ভেতরে পাওয়ারফুল লাইট দিয়ে পুরো এলাকা আলোকিত করা হবে, যাতে কোনো দুষ্কৃতকারী সুযোগ নিতে না পারে।’
জলাবদ্ধতা ও অবৈধ দখল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশনকে নির্দেশ দিয়েছি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দুই ধারের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে। আমাদের সীমানা প্রাচীর ভেঙে যেখানে নতুন নতুন প্রবেশদ্বার করা হয়েছে, সেগুলো বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ১২৪ জন লোক নিয়োগ করা আছে, যা দিয়ে সংকুলান হয় না। তাই চেম্বার অব কমার্সকে অনুরোধ করেছিলাম, তাদের পক্ষ থেকে ১০ জনের সম্মানী ভাতা তারা দেবে। আমার বন্ধু সংসদ সদস্য বেলালও নিজের পক্ষ থেকে ৫ জনের দায়িত্ব নিয়েছে। আমি চেষ্টা করব অন্যান্য সংস্থা বা ব্যক্তিবর্গ থেকে আরও ৫০ জনের সহযোগিতার ব্যবস্থা করতে। বাইরের বহিরাগত যারা ট্রলি বা রোগী নেওয়ার ক্ষেত্রে অবৈধ দালাল চক্র তৈরি করেছে, তা আর রাখা হবে না। আমরা চাই এটি স্বাভাবিক নিয়মে আসুক। ডিউটিরত প্রত্যেক কর্মচারীর পোশাক (ভেস্ট) থাকতে হবে এবং এক রোগীর ক্ষেত্রে কেবল একজন অ্যাটেনডেন্টকে প্রবেশাধিকার (কার্ড) দেওয়া হবে।’



