সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ভি পি আয়নুল হককে ঘিরে সৃষ্ট অপ্রীতিকর ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রায়গঞ্জ উপজেলা শাখা। একইসাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উস্কানিমূলক বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে রায়গঞ্জ পৌরসভার তালতলা এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা জামায়াতের আমির আলী মর্তুজা।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, রায়গঞ্জ পৌরসভায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) স্থাপনের দাবিতে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এটি কোনো রাজনৈতিক দলের দাবি নয়; বরং স্থানীয় জনগণের একটি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি। ওই কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিকভাবে অংশ নেয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, মতবিনিময় সভায় ফয়সাল বিশ্বাসের উপস্থিতিতে বক্তব্য ও আচরণকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে সংসদ সদস্য তাকে নিজের গাড়িতে তুলে নিলে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে এমপির গাড়ি লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়ার ঘটনা ঘটে।
তাদের দাবি, পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে ফয়সাল বিশ্বাস ওই ঘটনার জন্য জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করেন। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া এমন অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন জামায়াত নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। একইসাথে টিটিসি স্থাপনের বিষয়টি রাজনৈতিক বিরোধে না জড়িয়ে সরকারি নিয়মনীতি অনুসরণ করে জনগণের জন্য সুবিধাজনক স্থানে প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণের আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ডা: এস এম মুনছুর, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাসুদ রানা, রায়গঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মোশাররফ হোসেনসহ জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েক শ’ নেতাকর্মী।
এদিকে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সলঙ্গা থানা শাখা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগেও পৃথক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এছাড়া এ ঘটনায় রায়গঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের রনতীথা গ্রামের আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করেছে বলে জানা গেছে।



