টানা বর্ষণে কক্সবাজারের ৫০টি গ্রাম প্লাবিত, পাহাড়ধসে ২ জনের মৃত্যু

টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের শঙ্কা বেড়েছে। ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্কতা জারি করা হয়।

গোলাম আজম খান, কক্সবাজার অফিস

Location :

Cox's Bazar
কক্সবাজারের ম্যাপ
কক্সবাজারের ম্যাপ |ফাইল ছবি

টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরি উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে গিয়ে মাতামুহুরি নদীর ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে বেশ কয়েকটি গ্রাম। পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানিতে এই তিন উপজেলার ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

অপরদিকে, চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের মোহছনিয়াকাটা গ্রামে পাহাড়ধসে দুই শিশুর মৃত্যু হয় ও একজন আহত হন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোররাতে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করা একটি বাড়ির ওপর পাহাড়ধসে পড়লে মাটিচাপায় তাদের মৃতু হয়।

পাহাড়ি ঢলে চকরিয়া উপজেলার কাকারা, কৈয়ারবিল, লক্ষারচর ফাশিয়াখালী ইউনিয়ন, মাতামুহুরি উপজেলার পুর্ববড় ভেওলা, বিএমচর ইউনিয়ন, পেকুয়া উপজেলার সদর, পৌরসভা মেহেরনামা ও শীলখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জনপদ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। গতকাল রাতে মেহেরনামা এলাকায় মাতামুহুরি নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যায়। এতে নদীর পানি ঢুকে আশেপাশের গ্রাম পানিতে ডুবে যায়। মাতামুহুরি নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অপরদিকে, রামু উপজেলার গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, রাজারকুল ইউনিয়ন বিভিন্ন গ্রামে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বাকখালী নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাহাড়ি ঢলে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় জেলার অন্তত লক্ষাধিক মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে।

এদিকে, টানা বর্ষণের কারণে বেড়েছে পাহাড়ধসের শঙ্কা। আজও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্কতা জারি করা হয়।

গত চার দিনে পাহাড়ধসের ঘটনায় রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবিরে ১৬ জনসহ কক্সবাজার জেলায় ২০ জন এবং ঢলের পানিতে ভেসে গিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়।