ঘুরছেন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে

ভূঞাপুরে বিএনপি নেতাদের হুমকিতে ঘরছাড়া প্রতিবন্ধী ফরিদা

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী নারীর কৃষিজমি দখল করে দীর্ঘদিন ধরে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগে অভিযুক্ত বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হলেও গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে এলাকায়।

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

Location :

Bhuapur
ভূঞাপুরে বিএনপি নেতাদের হুমকিতে ঘরছাড়া প্রতিবন্ধী ফরিদা
ভূঞাপুরে বিএনপি নেতাদের হুমকিতে ঘরছাড়া প্রতিবন্ধী ফরিদা |নয়া দিগন্ত

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী নারীর কৃষিজমি দখল করে দীর্ঘদিন ধরে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগে অভিযুক্ত বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হলেও গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে এলাকায়।

বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী নিকরাইল ইউনিয়নের পলশিয়া গ্রামের মো: আব্দুস সালাম (৫৫)-কে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

এ সময় ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: সাব্বির রহমান, গ্রাম আদালতের উপজেলা কো-অর্ডিনেটর মো: আকতারুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা হওয়ায় ক্ষুব্ধ হন বিএনপির ওই তিন নেতা ও তাদের সহযোগীরা। তারা বিভিন্নভাবে ওই প্রতিবন্ধী নারীকে হুমকি প্রদান করে যাচ্ছে। ভয়ে বাড়িতে যেতে পারছেন না তারা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

এর আগে, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সালামসহ বিএনপির আরো দুই নেতা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব ও আ: মোন্নাফের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী নারী ফরিদা খাতুনের কৃষিজমি জোরপূর্বক দখল করে প্রায় দুই বছর ধরে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কেটে বিক্রির গুরুতর অভিযোগ ওঠে।

ভুক্তভোগী ফরিদা খাতুন, নিকরাইল ইউনিয়নের পলশিয়া গ্রামের মরহুম জিঞ্জির আলী ফকিরের মেয়ে।

তিনি গত ২০ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন এবং ২২ এপ্রিল সকালে থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা তার একমাত্র কৃষিজমি দখলে রেখে নিয়মিত মাটি কেটে বিক্রি করে আসছেন। জমিতে বাধা দিতে গেলে ফরিদা ও তার পরিবারের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তিনি, তার ভাই এবং ভাইয়ের মেয়ে আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকালে ‘ভূঞাপুরে প্রতিবন্ধী নারীর জমি দখল করে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে’ এই শিরোনামে নয়া দিগন্তে সংবাদ প্রকাশ হলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।

এর আগে ২১ এপ্রিল ভুক্তভোগী ফরিদাকে নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এর পর থেকে ভুক্তভোগীকে ফের হুমকি দেয়া এবং প্রশাসনকে গালিগালাজসহ কটুক্তি করার অভিযোগ করেন ফরিদা।

তিনি বলেন, সংবাদ প্রকাশের পর থেকে আত্মরক্ষার তাগিদে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। যে কোনো সময় আবার হামলা করতে পারে এবং সেই প্রস্তুতি নিয়ে আমাদের কড়া পাহারায় রেখেছে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সালাম ও তার দলবল।

প্রতিবন্ধী ফরিদা জানান, প্রশাসন অভিযান করায় আমাকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। আতঙ্কে বাড়িতে যেতে পারছি না। তারা নাকি প্রশাসনকে টাকা দেয়। আমি এহন কার কাছে যামু, এ কথা বলে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন

প্রতিবন্ধী ফরিদার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তার বোন, একই দলের উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের সভানেত্রী ময়মনা বেগম।

তিনি তার বোনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা আতঙ্কে রয়েছি। আমরা আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি। তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই এবং আমাদের অধিকার বাস্তবায়ন চাই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মাহবুব হাসান জানান, মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে অভিযুক্ত আ: সালামকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। প্রতিবন্ধী ফরিদার জমির সব কাগজপত্র যাচাই করে আইনবিধি অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এ ছাড়া ভুক্তভোগী নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে—এমন অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।