ফেনী অফিস
ফেনীতে নিজ দলের লোকদের বিরুদ্ধে সাইফুদ্দিন শিবলু নামে ছাত্রদলের এক নেতার দুটি বসতঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এক যুবদল নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মাটি ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্বে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের উত্তর ফতেহপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিবলু ছাত্রদলের ফেনী আলিয়া মাদরাসা শাখার বর্তমান সভাপতি।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে যুবদল নেতা জাফর আহমদ মানিককে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জেলা যুবদলের সদস্য মিজানুর রহমান রাসেল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলের নীতি আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকাসহ শর্শদী ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামে ছাত্রনেতা শিবলুর বাড়ীতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে যুবদল কর্মী জাফর আহমদ মানিককে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হলো। বহিষ্কৃত কর্মীর কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না। যুবদলের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের তার সাথে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেয়া হলো। উক্ত সিদ্ধান্ত ফেনী জেলা যুবদলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন খন্দকার, সদস্য সচিব নঈম উল্লাহ চৌধুরী বরাত ও সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক বেলাল হোসেন কার্যকর করছেন।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও দলীয় সূত্র জানায়, শর্শদি ইউনিয়নের ফতেহপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাটির ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে একটি ইটভাটার জন্য মাটি পরিবহনের সময় কয়েকটি গাড়ি আটকে দেয় একটি পক্ষ। ওই পক্ষটিতে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সমবায় সম্পাদক নাসির উদ্দিন, উপজেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব মীর মোশাররফ হোসেন, শর্শদি ইউনিয়ন যুবদলের সমন্বয় কমিটির সদস্য জাফর আহমদ মানিক, যুবদল কর্মী দেলোয়ার হোসেন ও আলাউদ্দিন ছিলেন। গাড়ি আটকে দেয়ার বিষয়ে তাদের সাথে ছাত্রদল নেতা সাইফুদ্দিন শিবলু ও তার সমর্থকদের বাকবিতণ্ডা হয়। এ ঘটনায় ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সাইফুদ্দিন শিবলু বলেন, বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনার পর থেকে তারা আমাকে বিভিন্ন হুমকি দিতে থাকেন। শুক্রবার জুমার নামাযের পর শর্শদি ইউনিয়ন যুবদলের সমন্বয় কমিটির সদস্য জাফর আহমদ মানিক ও তার লোকজন আমার মেজ ভাইকে মারধর করে হাত ভেঙে দেয়। পরে আমার দুজন কর্মীকে তুলে নিয়ে পার্শ্ববর্তী দেবীপুর এলাকার একটি ক্লাবে বেঁধে রাখে। এরপর রাতে মানিকের নেতৃত্বে দেলোয়ার, জামাল ও আরফান আমার বাড়িতে হামলা করে।
তিনি বলেন, বসতঘরে হামলার সময় আমার মা ও বোনকে একটি রুমে আটকে রাখা হয়। পরে আমার মা ও বোন ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে বাড়ির সামনের রাস্তায় গেলে হামলাকারীরা আমাদের ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়।
আগুনের ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। জানতে চাইলে ফেনী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাদাত হোসেন বলেন, আগুনে বসতঘর ও রান্নাঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। তদন্তের পর আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নুর ইসলাম, জেলা ছাত্রদল সভাপতি এসএম সালাউদ্দিন মামুন ও সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম মিলন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এরপর শনিবার ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি পরিদর্শন করেন জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার নাসির উদ্দিন। তিনি শিবলুর ঘর পুনঃনির্মাণে আর্থিক সহায়তা দেন এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন।
নাসির উদ্দিন খন্দকার বলেন, এ ন্যক্কারজনক ঘটনার নিন্দা জানাই। যারা এ ঘটনার সাথে জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে।
ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তারেক ইকবাল মনি বলেন,‘আমরা কোনো সন্ত্রাসী রাজনীতি করি না, কাউকে করতেও দেবো না। শিবলুর বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আমাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। যারা এ ঘটনার সাথে জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।’
ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাস বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে সংঘটিত ঘটনা বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।



