খুলনায় হত্যা মামলায় মা-ছেলেসহ ৫ জনের যাবজ্জীবন

রোববার দুপুরে খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো: খুরশীদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

Location :

Dighalia
প্রতীকী ছবি

খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলায় রাশিদা বেগম হত্যা মামলায় মা ও ছেলেসহ পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

একইসাথে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো: খুরশীদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো: শাহ আলম বাসসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- দিঘলিয়া উপজেলা সদরের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা মো: মুনসুর আলীর স্ত্রী মোসা: আনোয়ারা বেগম, তার ছেলে মো: ইসমাইল শেখ ওরফে বাবু ও জামাই শামিম শেখ এবং মহেশ্বরপাশা এলাকার সাহেবের বাড়ির ভাড়াটিয়া নজরুল ইসলাম মুন্সির ছেলে রাজু ওরফে রাজু মুন্সি ও তেরখাদা উপজেলার দেয়াড়া উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা শের আলীর ছেলে ইলিয়াস শেখ।

তাদের মধ্যে শামীম শেখ ও তার শাশুড়ি মোসা: আনোয়ারা বেগম ছাড়া অন্যরা পলাতক রয়েছে। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

আদালতের সূত্র জানান, ২০১১ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে দেয়াড়া উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা নাসিরুজ্জামান তার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মেয়ে ও মা রাশিদা বেগমকে বাড়িতে রেখে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে বেড়াতে যান। এ সুযোগে সংঘবদ্ধ চোরের দল বাড়িতে প্রবেশ করে।

বিষয়টি আঁচ করতে পেরে নাসিরুজ্জামানের বৃদ্ধ মা জেগে উঠলে ধরা পড়ার ভয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে তাকে গলা কেটে হত্যা করে। এরপর চোরের দল ঘর থেকে ২০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনার দিন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় বাড়ি আসতে নাসিরুজ্জামানের দেরি হয়। পরে বাড়িতে ফিরে ডাকাডাকিতে সাড়া না দেয়ায় প্রতিবেশীদের নিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে খাটের নিচে তার মায়ের গলাকাটা লাশ দেখতে পান।

এ ঘটনায় ওই বছরের ২০ জুলাই তিনি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে ২০১৩ সালের ১২ মার্চ দিঘলিয়া থানার এসআই আসাদুজ্জামান উল্লিখিত আসামিদের অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ টি এম মনিরুজ্জামান বলেন, মামলার পরপর পুলিশ ঘটনার তদন্তে নামে। বাড়ি থেকে একটি স্যান্ডেল উদ্ধার করে পুলিশ। সেই স্যান্ডেলের সূত্র ধরে প্রথমে শামীমকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতার শামীম রাশিদা বেগমের বাড়ির গৃহপরিচারিকা। মূলত তিনি বাড়ির সকল খবরাখবর আসামিদের কাছে পৌঁছে দিতেন। বাড়িতে ছেলে না থাকার সুযোগে উল্লিখিত আসামিরা ঘরের ভেতর প্রবেশ করে রাশিদা বেগমকে হত্যা করে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত।

সূত্র : বাসস