জামালপুরের মাদারগঞ্জে দোকান দখলকে কেন্দ্র করে যৌথবাহিনীর হাতে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়কসহ তিন নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: হাসান আল মামুন। তিনি জানিয়েছেন, এর আগে সোমবার বিকেলে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও জোনাইল পূজা ঘাটি এলাকার মো: হেলাল উদ্দিন, মোসলেমাবাদ গ্রামের মো: শফিকুল ইসলাম এবং সোহাগ মিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে চরনগর এলাকার নাজমুল হাসানসহ চারজন ব্যবসায়ী ১২ লাখ টাকায় জোনাইল বাজারে সমবায় সমিতির কাছ থেকে চারটি দোকান ক্রয় করেন।
এরপর নাজমুল হাসান তার মালিকানাধীন দোকানে মনোহারি পণ্যের ব্যবসা শুরু করেন।
চলতি বছরের মার্চ মাসে অভিযুক্ত তিন যুবদল নেতাকর্মী ওই দোকানগুলো জোরপূর্বক দখলে নিয়ে সেখানে ওএমএস (অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) এর চালের গোডাউন স্থাপন করেন।
স্থানীয়রা জানায়, এলাকাবাসী একাধিকবার সালিস বৈঠক করলেও কোনো সমাধান সম্ভব হয়নি। অবশেষে ভুক্তভোগীরা আইনশৃঙ্খলা-রক্ষাকারী বাহিনীর শরণাপন্ন হন।
অভিযোগের পর যৌথবাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে সোমবার বিকেলে পৌর শহরের জোনাইল বাজার থেকে তাদের গ্রেফতার করে । এর আগে দখলকৃত দোকান ছেড়ে দেয়ার জন্য তাদের সতর্ক করেছিল সেনাবাহিনী।
এ ঘটনায় দোকান মালিক নাজমুল হাসা মাদারগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনার বিষয়ে উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। বিষয়টি জেলা নেতাদের জানিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
জেলা যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম খান সজিবের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি রিসিভ করেননি।
মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মঞ্জুর কাদের বাবুল খান বলেন, ঘটনার কথা শুনেছি। প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে দলীয়ভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান আল-মামুন জানান, সোমবার তিনজনকে গ্রেফতার করে থানায় আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী নাজমুল হাসান একটি মামলা করেছেন। মঙ্গলবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।



