খাগড়াছড়ির রামগড় পৌর এলাকার প্রাচীন বিদ্যাপীঠ চৌধুরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন অসংখ্য শিক্ষার্থী বর্তমানে সমাজের বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে সুনামের সাথে কাজ করছেন। কিন্তু স্বনামধন্য প্রাচীন এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠনটি আজ মাদকসেবী ও বখাটেদের কালো থাবায় আহত। শৈশবের মধুর স্মৃতি বিজড়িত প্রিয় প্রতিষ্ঠানের এমন করুণ অবস্থা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার পর থেকেই স্কুল প্রাঙ্গণে আনাগোনা বাড়ে বহিরাগত কিছু কিশোর ও যুবকের। রাতের অন্ধকারের সাথে সাথে জমতে থাকে ফেনসিডিল ও ইয়াবার আসর। শুধু মাদক সেবনই নয়, স্কুলের বারান্দায় বসে চলে অশ্লীল সিনেমা দেখা ও অসামাজিক কার্যকলাপ। এলাকাবাসী ও স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মাদকসেবীদের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ।
বখাটেদের তাণ্ডব থেকে রেহাই পাচ্ছে না স্কুলের সম্পদও। সম্প্রতি মাদকসেবীরা স্কুলের সিসিটিভি ক্যামেরা ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ভেঙে ফেলে। সবচেয়ে ন্যক্কারজনক বিষয় হলো, মাদক সেবনের পর তারা স্কুলের বেসিনে মলত্যাগ করে বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করছে। সকালে খুদে শিক্ষার্থীরা স্কুলে এসে এমন নোংরা পরিবেশ দেখে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
স্কুলটির ১৯৮৪ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শাহজাহান আক্ষেপ করে বলেন, এ স্কুল থেকে ১৯৮৮ সালে পঞ্চম শ্রেণি পাস করে বের হয়েছি। আমার শৈশবের অনেক মধুর স্মৃতি এ বিদ্যালয়ের সাথে জড়িয়ে আছে। অথচ আজ এখানে রাতের অন্ধকারে মাদক সেবন হয়, সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলা হয়। বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের বাথরুম নোংরা করছে। এসব দেখে প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি খুবই মর্মাহত।
তিনি বলেন, আমরা চাই প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিক। মাদকের সাথে জড়িত কাউকে যেন ছাড় দেয়া না হয়।
তিনি আরো বলেন, চৌধুরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিয়মিত পুলিশ টহলের মাধ্যমে মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি রাতে স্কুল আঙ্গিনায় আড্ডা দেয়া সন্দেহভাজনদের আটক করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া অনিবার্য হয়ে পড়েছে।
বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মংপ্রু চৌধুরী বলেন, রোজা ও ঈদের ছুটিতে দীর্ঘদিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে একদল বখাটে ও মাদকসেবী বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে মাদক সেবন করছে। এতে কোমলমতি শিশুদের শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর আমরা তাৎক্ষণিক জরুরি বৈঠকে বসেছি। বিদ্যালয়ের সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে মাদকসেবী ও বখাটেদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রধান শিক্ষককে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ নাজির আলম জানান, বিদ্যালয় এলাকা ও তৎসংলগ্ন স্থানগুলোতে মাদক নির্মূলে পুলিশের টহল ইতোমধ্যে বাড়ানো হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনি পদক্ষেপ নেব।



