রাজশাহীতে মাহবুব আলম নামে এক পুলিশ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে তার পুলিশ সার্জেন্ট স্ত্রী সাবিহা আক্তার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন।
পুলিশ সার্জেন্ট সাবিহা আক্তার রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজির কাছে তিন পৃষ্ঠার লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
লিখিত অভিযোগে তিনি পুলিশ পরিদর্শক স্বামীর বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানো এবং অর্থ আত্মসাতের বিষয় উল্লেখ করে আইনগত প্রতিকার চান।
জানা যায়, অভিযোগকারী পুলিশ সার্জেন্ট মোসা: সাবিহা আক্তার বর্তমানে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত।
তার দাবি, ২০২০ সালে পরিচয়ের সূত্র ধরে তৎকালীন বোয়ালিয়া মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক মাহবুব আলম নিজের আগের বিয়ের তথ্য গোপন রেখে তাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই সম্পর্কটি ছিল একতরফা ও মানসিক চাপের মধ্যে আবদ্ধ।
লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, সংসার জীবনে বারবার শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
স্বামীর একাধিক নারীর সাথে সম্পর্কের অভিযোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিবাদ করলেই তাকে মারধর ও অপমানের মুখে পড়তে হতো।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে তিনি দাবি করেন, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর তাকে জোরপূর্বক চার মাসের গর্ভপাত করানো হয়, যা তার শারীরিক ও মানসিক জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে।
অভিযোগে আরো বলা হয়, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার আশায় বিশ্বাসের জায়গা থেকে তিনি পুলিশ পরিদর্শক স্বামীকে প্রায় ২০ লাখ টাকা দেন। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি; বরং নির্যাতনের মাত্রা বেড়েছে। বর্তমানে তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে, যার দেখভালের দায়িত্ব তিনি একাই পালন করছেন বলে উল্লেখ করেন।
অভিযোগে আরো উঠে এসেছে, স্বামী পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব আলম অন্য এক নারীর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যা নতুন করে সমস্যা তৈরি করছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সার্জেন্ট সাবিহা আক্তার ডিআইজির কাছে দেয়া এসব অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন। আর এ ব্যাপারে ন্যায়বিচার কামনা করেন তিনি। তবে অভিযোগ নিয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মাহবুব আলম বর্তমানে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির অধীনে সিরাজগঞ্জে ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত রয়েছেন। তাকে কোনো দায়িত্ব দেয়া হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মোবাইলে মাহবুব আলমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেয়া যায়নি।
পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, এ বিষয়ে আইনগতভাবে যে সব ব্যবস্থা নেয়া দরকার সেগুলো নিয়েছি। অভিযোগের বিষয়ে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা হবে।



