বগুড়ার শেরপুরে ৩ বিঘা জমির আলুর গাছ উপড়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা

রাতে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মাথাইল চাপর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আকরাম হোসাইন, শেরপুর (বগুড়া)

Location :

Bogura
আলুর গাছ উপড়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা
আলুর গাছ উপড়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা |নয়া দিগন্ত

বগুড়ার শেরপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে তিন বিঘা জমির আলু গাছ উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন ভুক্তভোগী কৃষক জাহাঙ্গীর আলম।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাতে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মাথাইল চাপর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মাথাইলচাপর গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম এবার প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করেন। বর্তমানে আলুর গাছগুলোর বয়স ৩০ দিন। সাধারণত ৮০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে ফলন পাওয়া যায়। ইতোমধ্যে বিঘা প্রতি প্রায় ৪০ হাজার টাকা করে খরচ করে ফেলেছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে দিনমজুর নিয়ে আলুর গাছ বেঁধে দেয়ার জন্য জমিতে গিয়ে দেখতে পান, তার তিন বিঘা জমির আলুর গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে।

কৃষক জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন, ‘ডিপ টিউবওয়েল নিয়ে একই এলাকার মরহুম আনিছুর রহমানের ছেলে মাসুদ রানার সাথে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। ইতোপূর্বে স্থানীয়রা তাকে সতর্ক করেছিলেন যে, মাসুদ রানা তার ক্ষতি করতে পারে। সেই শত্রুতার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এই কাজ করা হয়েছে’।

ভুক্তভোগী কৃষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিন বিঘা জমিতে তার বিনিয়োগ ছিল প্রায় দেড় লাখ টাকা। ফলন ভালো হলে তিনি প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার আলু বিক্রি করতে পারতেন। কিন্তু ফসল ঘরে তোলার আগেই দুর্বৃত্তদের এমন তাণ্ডবের শিকার হলেন। গতবছর আলুতে ৫০ লাখ টাকার উপরে লোকসান হয়েছে, এবার লোকসান পোষাতে আবারো আলু চাষ করেছিলেন কিন্ত এভাবে দুর্বৃত্তের শিকার হবেন ভাবতে পারেননি। তিনি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিচার চান।

কৃষক আজগর আলী, আব্দুস সালামসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, এভাবে কেউ গাছ উপড়ে ফেলবে আমরা কল্পনাও করতে পারিনি, আমরা নিজেরাও ভয়ে আাছি আমাদের জমির আলু গাছ নিয়ে।

উপজেলা কৃষি অফিসার ফারজানা আক্তার বলেন, ‘খবর পেয়ে আমার লোক পাঠিয়েছি সরেজমিনে গিয়ে দেখে আসার জন্য, এটি খুবই দুখঃজনক ঘটনা।’

এ বিষয়ে শেরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহিম আলী জানান, এটি অত্যান্ত দু:খজনক ঘটনা। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পায়নি। পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।