ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে সেই অর্থ বিদেশে পাচারের মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং ইউসিবির সাবেক চেয়ারম্যান ও এমডিসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
বুধবার চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ মো: হাসানুল ইসলাম এই আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এদিন সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। আসামিদের মধ্যে আব্দুল আজিজ, জাহাঙ্গীর আলম, উৎপাল পাল ও মো: সুমন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
এর আগে গত ৪ জানুয়ারি ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামের একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া ঋণ অনুমোদন করিয়ে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগে চার্জশিট অনুমোদন দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সাইফুজ্জামান ও তার স্ত্রীসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে গত ২৪ জুলাই তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিচালক মশিউর দুদক চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি করেছিলেন।
এজাহারে থাকা ৩১ আসামির মধ্যে ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুল আওয়াল এবং সাইফুজ্জামানের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কাজী মো: দিলদার মারা যাওয়ায় তাদের বিচারিক কার্যক্রম থেকে বাদ দেয়ার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে সুপারিশ করেছেন। এছাড়া আরো তদন্তে নাম আসায় অভিযোগপত্রে আসামি হিসেবে আরো ৭ জনকে যুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে ইউসিবিএল ব্যাংক ও সাইফুজ্জামানের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তাসহ ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
বাকি ২৯ জনের সাথে তদন্তে পাওয়া ৭ জনসহ মোট ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে দুদক। অভিযোগপত্রে ইউসিবিএল ব্যাংক ও সাইফুজ্জামানের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তাসহ ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
চার্জশিটভুক্ত উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী ও ইউসিবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, ইউসিবি ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি আরিফ কাদরী, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বজল আহমেদ বাবুল, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান এমএ সবুর, সাবেক পরিচালক ইউনুছ আহমদ, হাজী আবু কালাম ও নুরুল ইসলাম চৌধুরীসহ ব্যাংকের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে ব্যবসায়ী সাজিয়ে মিথ্যা তথ্যে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স করা হয়। সেটি দিয়ে ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর ইউসিবিএল ব্যাংকের চট্টগ্রামের পোর্ট শাখায় একটি চলতি হিসাব খোলা হয়।
পরের বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটি গম, হলুদ, ছোলা ও মটর আমদানির কথা বলে ১৮০ দিনের জন্য ‘টাইম লোনের’ আবেদন করে।
অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়, প্রস্তাবটি নেতিবাচক হওয়ার পরও ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই না করে ঋণ অনুমোদন করে। ঋণের টাকাগুলো ‘নাম সর্বস্ব’ চারটি প্রতিষ্ঠান আলফা ট্রেডার্স, ক্লাসিক ট্রেডার্স, মডেল ট্রেডিং ও ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের অ্যাকাউন্টে পে অর্ডারের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়। পরে যা নগদে উত্তোলন ও স্থানান্তর করা হয়।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, পরে এসব টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করে সম্পত্তি ক্রয় এবং সাইফুজ্জামানের মালিকানাধীন আরামিট সিমেন্টে ও আরামিট থাই অ্যালমুনিয়াম লিমিটেডের হিসাবে জমা করে দায় সমন্বয় করা হয়।
২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।



