জাল স্বাক্ষর ও ভুয়া নিয়োগ, চরফ্যাসনের ২ সুপারের বেতন বন্ধ

ভুয়া এমপিওভুক্তির ফাইল পাঠানোর কারণে দুই মাদরাসার সুপারকে শোকজ করেছে মাদরাসা অধিদফতর।

মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, চরফ্যাশন (ভোলা)

Location :

Bhola
ফাইল ছবি

ভুয়া এমপিওভুক্তির ফাইল পাঠানোর কারণে ভোলার চরফ্যাসন উপজেলাধীন আমিনাবাদ ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মোহাম্মদ নুরুন্নবী ও ঢালচর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মোহাম্মদ আমির হোসেনের বেতন-ভাতা বন্ধ করে দিয়েছে মাদরাসা অধিদফতর।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সুপার মোহাম্মদ নুরুন্নবী ও মো: আমির হোসেনকে এ কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে মাদরাসা অধিদফতর।

প্রাথমিকভাবে তাদের এমপিও সাময়িক স্থগিতসহ কেনো স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ পাঠানো হয়। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দেয়ার জন্য বলা হয়। সন্তোষজনক জবাব না দিলে তাদের এমপিও স্থায়ীভাবে বাতিল হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে মাদরাসা অধিদফতর।

নোটিশে জানানো হয়, মাদরাসার প্রধান কর্তৃক প্রেরিত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন এমপিও আবেদন এমপিও নীতিমালা ২০২৬ অনুযায়ী গঠিত কমিটির যাচাই বাছাইয়ে পরিলক্ষিত হয়, আমিনাবাদ ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার ল্যাব অপারেটর গবেষণাগার ও আয়া পদে এবং ঢালচর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার ল্যাব অপারেটর পদে ভুয়া নিয়োগ বোর্ড গঠনপূর্বক ফলাফল শিট প্রণয়ন, মাদরাসা শিক্ষা মহাপরিচালক অধিদফতরের প্রতিনিধির নামে জাল চিঠি প্রস্তুত এবং স্বাক্ষর জাল করে জুলাই মাসে নতুন এমপিওভুক্তির আবেদন করা হয়েছে।

যাচাই-বাছাই কমিটি উক্ত আবেদন পরীক্ষা করে মহাপরিচালকের প্রতিনিধির নামে প্রণীত জাল চিঠি এবং জাল ফলাফল বিবরণী শনাক্ত করে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি নতুন এ এমপিও আবেদনগুলো বাতিলের সুপারিশ করে।

নোটিশে আরো বলা হয়, এমতাবস্থায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী আমিনাবাদ ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মোহাম্মদ নুরুন্নবী ও ঢালচর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মো: আমির হোসেনের বেতন-ভাতা (এমপিও) সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।

এছাড়া স্থায়ীভাবে বেতন-ভাতা বন্ধ করা হবে না কেন এ মর্মে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জবাব পাওয়া না গেলে অথবা প্রদত্ত জবাব সন্তোষজনক বিবেচিত না হলে, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে মো: নুরুন্নবী বলেন, ‘আমার সকল কাগজপত্র সঠিক আছে। আমি অধিদফতরে জবাব দেব।’

অপরদিকে সুপার আমির হোসেন বলেন, ‘আমি অধিদফতরের চিঠি পেয়েছি। এখন ঢাকায় আছি। জবাব দেব।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মীর এ কে এম আবুল খায়ের বলেন, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। আমার আগে যিনি দায়িত্ব পালন করেছেন তার স্বাক্ষর জাল করে দুই মাদরাসার সুপার এ কাজ করেছে। অধিদফতর যথাযথভাবে যাচাই করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।’