আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের প্রথম আহ্বায়ককে স্মরণ করেনি কেউ

‘কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচি পালন করেছি। রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের প্রথম আহ্বায়কের বিষয়টি আমার অজানা ছিল। ভবিষ্যতে তার জন্য কিছু করা যায় কিনা সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হবে।’

হাসান মাহমুদ রিপন, সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ)

Location :

Sonargaon
ভাষা সৈনিক ড. নূরুল হক ভূঁইয়া, (ডানে) তার সমাধি
ভাষা সৈনিক ড. নূরুল হক ভূঁইয়া, (ডানে) তার সমাধি |নয়া দিগন্ত

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হলেও স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনীতিবিদদের কেউই স্মরণ করেনি রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের প্রথম আহ্বায়ক ড. নূরুল হক ভূঁইয়াকে।

সোনারগাঁওয়ে নোয়াগাঁও ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে ভাষা সৈনিক ড. নূরুল হক ভূঁইয়ার বাড়ি ও তার সমাধি।

জানা যায়, ১৯৪৭ সালে ১ সেপ্টেম্বর ‘তমদ্দুন মজলিস’ গঠিত হয়। তমদ্দুন মজলিসের প্রথম শ্রেণির নেতা ছিলেন ড. নূরুল হক ভূইয়া। ১৫ সেপ্টেম্বর এ মজলিসের নেতারা বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব গ্রহণ করে। এ সংগ্রাম পরিষদের প্রথম আহ্বায়ক ছিলেন ড. নূরুল হক ভূঁইয়া।

ড. নূরুল হক ভূইয়া পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবিতে ৫২’র ভাষা আন্দোলনে যেমন সক্রিয় ছিলেন তেমনি ৬৬’র ছয় দফা আন্দোলন ও ৭১’র মুক্তিযুদ্ধের সময়ও সক্রিয় ছিলেন। তিনি ১৯৭৩ সালে পাটের অগ্নিরোধক মিশ্রন উৎপাদন প্রণালীর তত্ত্ব আবিষ্কার করে প্রশংসিত হয়েছেন। এছাড়াও তিনি দ্রুত বেগসম্পন্ন বিমান ইঞ্জিন ও ইঞ্জিনের উদ্বায়ী জ্বালানী দীর্ঘ স্থায়ীত্বের সহায়ক ‘মলিবডেনাম ডাই-সালফাইড’ নামের সলিড লুব্রিকেন্ট আবিষ্কার করে আন্তজার্তিক স্বীকৃতি লাভ করেছেন। ১৯৯৮ সালের ২ এপ্রিল ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন নূরুল হক ভূঁইয়া।

সোনারগাঁও উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা ড. নূরুল হক ভূঁইয়া ছিলেন তমুদ্দিন মজলিসের প্রতিষ্ঠাকালীন সাংস্কৃতিক সম্পাদক। ১৯৯৪ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করার পর সোনারগাঁওয়ের নিজ গ্রামে তাকে সমাহিত করা হয়।

তবে ভাষা দিবসে কোনো সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের কেউই তার সমাধিস্থলে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়নি। তার জীবন ও কর্ম নিয়ে কোনো আলোচনা সভা কিংবা দোয়া মাহফিলের আয়োজনও করেনি। বর্তমান প্রজন্মের কাছে তার অবদান তুলে ধরতে কোনো ধরনের উদ্যোগই গ্রহণ করা হয়নি।

এ ব্যাপারে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সোনারগাঁ শাখার সভাপতি শংকর প্রকাশ জানান, সোনারগাঁওয়ের সন্তান ড. নূরুল হক ভূঁইয়া রাষ্ট্রভাষা সংগ্রামের প্রথম পর্বে অনন্য ভূমিকা রেখেছিলেন। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে তাকে স্মরণ না করার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সোনারগাঁও শাখার সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মামুন বলেন, ‘যোগ্য ব্যক্তির সম্মান আমরা দিতে জানি না। রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের প্রথম আহ্বায়ক ড. নূরুল হক ভূঁইয়াকে বর্তমান প্রজন্মের কেউ চেনেন না। ইতিহাস হারিয়ে যাচ্ছে। তাকে নিয়ে প্রশাসনের স্বরণসভার আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।’

সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচি পালন করেছি। রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের প্রথম আহ্বায়কের বিষয়টি আমার অজানা ছিল। ভবিষ্যতে তার জন্য কিছু করা যায় কিনা সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হবে।’