পদ ফিরে পেলেন বহিষ্কৃত সেই বিএনপি নেতা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়নের হরিষকুল এলাকায় একটি নির্বাচনী উঠান বৈঠকে হিন্দু সম্প্রদায়কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা সেন্টু মোল্লাকে স্বপদে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে।

শওকত আলী রতন, দোহার (ঢাকা)

Location :

Dohar
পদ ফিরে পেলেন বহিষ্কৃত সেই বিএনপি নেতা সেন্টু মোল্লা
পদ ফিরে পেলেন বহিষ্কৃত সেই বিএনপি নেতা সেন্টু মোল্লা |নয়া দিগন্ত

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়নের হরিষকুল এলাকায় একটি নির্বাচনী উঠান বৈঠকে হিন্দু সম্প্রদায়কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা সেন্টু মোল্লাকে স্বপদে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে।

শনিবার (১২ এপ্রিল) নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক সাক্ষরিত প্যাডে সেন্টু মোল্লার দলীয় পদ ফিরে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সেন্টু মোল্লা যন্ত্রাইল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক থাকার সময় বিতর্কিত মন্তব্য করে ব্যাপক সমালোচিত হন। বহিষ্কারের ২ মাস পর পুনরায় পদ ফিরে পেলেন তিনি।

ওই সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেন্টু মোল্লার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয় সারাদেশে।

গত ১০ এপ্রিল দল থেকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য দলীয় প্যাড ব্যবহার করে নবাবগঞ্জ উপজেলা সাধারণ সম্পাদক বরাবর একটি আবেদন করেন সেন্টু মোল্লা।

আবেদনে তিনি লিখেন, ৩১ জানুয়ারি তারিখে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। বর্তমানে আমি আপনার নিকট আমার এই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি। তারই পেক্ষিতে একদিন পরেই (১১ এপ্রিল) তাকে পূর্বের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে স্বপদে ফিরিয়ে নেয়া হলো। দুটি চিঠিই এ প্রতিবেদকের কাছে পৌঁছেছে।

উপজেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক খন্দকার মাহমুদ আরশীন সাক্ষরিত দলীয় প্যাডে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

খন্দকার মাহমুদ আরশীন জানান, সে তার ভুল স্বীকার করে উপজেলা সাধারণ সম্পাদক বরাবর আবেদন করলে আবেদনের বিষয়টি বিবেচনা করে তার বহিষ্কৃত পদ ফিরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল হলে আর তাকে ক্ষমা করা হবে না।

এ বিষয়ে আরো জানতে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুস সালামকে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এর আগে (৩০ জানুয়ারি) ঢাকা ১ আসনের নির্বাচনী উঠান বৈঠকে যন্ত্রাইল ইউনিয়নের হরিষকুল এলাকায় নির্বাচনী উঠান বৈঠকে বক্তব্য দেয়ার সময় সেন্টু মোল্লা তার ফেসবুক আইডি থেকে একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, হিন্দু ভোটার যারা আছেন তাদের বাক্স আলাদা থাকবে। হিন্দু ভাইয়েরা কে কয়টা ভোট দেন আপনাদের ভোটের বাক্স এই কেন্দ্রে আলাদা থাকবে এবং কে কয়টা ভোট দিলেন বাক্স টোকা দিলেই কিন্তু গণনার সময় বের হয়ে যাবে। কাজেই সময় থাকতে সচেতন হয়ে যান। আপনাদের ভোট কিভাবে কালেকশন করা লাগে সেটা কিন্ত আমরা জানি।

শনিবার দুপুরে ভিডিও সামাজিক যোগাযাগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায় ভোটের মাঠে। এতে হিন্দু ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের ভীতির সঞ্চার হয়।

ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর গত ৩১ জানুয়ারি বিকেলে উপজেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক খন্দকার আরশীন মাহমুদ দলীয় শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি লঙ্ঘণের দায়ে সেন্টু মোল্লাকে যন্ত্রাইল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।