নেসকো’র প্রধান কার্যালয় গোপনে রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের চেষ্টা

প্রতিমন্ত্রীর চিঠিতে তোলপাড়

চিঠি পাওয়ার পর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে এ সংক্রান্ত একটি কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রণালয়। এক মাসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে কমিটিকে।

আব্দুল আউয়াল, রাজশাহী ব্যুরো

Location :

Rajshahi

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির (নেসকো) প্রধান কার্যালয় গোপনে রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি জানাজানি হলে রাজশাহীতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ ব্যাপারে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে একটি আধাসরকারি (ডিও) চিঠি দিয়েছেন।

চিঠি পাওয়ার পর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে এ সংক্রান্ত একটি কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রণালয়। এক মাসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে কমিটিকে।

বিদ্যুৎমন্ত্রীকে পাঠানো স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাক্ষরিত ডিও লেটারে তারিখ উল্লেখ রয়েছে ২৫ ফেব্রুয়ারি। আর ১ মার্চ চিঠিটি বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবের দফতর রিসিভ করে। এরপর ৩ মার্চ বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ শাখার উপসচিব ফারজানা খানম সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করেন।

সূত্র বলছে, এরপর থেকে বিষয়টি এতদিন গোপন রাখা হয়েছিল। কিন্তু সোমবার বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় রাজশাহী জুড়ে তোলপাড় শুরু

হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উঠেছে সমালোচনা ও প্রতিবাদ।

মীর শাহে আলম সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে নেসকোর প্রধান কার্যালয় নিজ জেলায় নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।

বিদ্যুৎমন্ত্রীকে পাঠানো ডিও লেটারে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উল্লেখ করেন, নেসকোর অপারেশনাল এলাকা উত্তরের পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলা সদর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা এবং পূর্ব-দক্ষিণের পাবনা জেলা পর্যন্ত বিস্তৃত। কিন্তু সদর দফতর রাজশাহীতে হওয়ায় রংপুর বিভাগের অপারেশনাল অনেক কাজ যথাসময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে নেসকোর সার্বিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে বলে দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী।

চিঠিতে প্রতিমন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের মধ্যবর্তী স্থান হিসেবে বগুড়া জেলায় নেসকোর সদর দফতর স্থাপন করা হলে সার্বিক অপারেশনাল কাজে গতি আসবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, ব্যয় সাশ্রয়, প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং গ্রাহক সেবার মানোন্নয়নের স্বার্থে নেসকোর হেড অফিস বগুড়ায় স্থানান্তর একটি সময়োপযোগী ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে অবিলম্বে নীতিগত অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য মন্ত্রীর সদয়, জরুরি ও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত কামনা করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর এ চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ মার্চ বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ শাখার উপসচিব ফারজানা খানম সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করেন। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সমন্বয় অনুবিভাগ) মোহাম্মদ সানাউল হককে। এছাড়া বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের একজন প্রতিনিধিকে সদস্য রাখতে বলা হয়েছে। চিঠিতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া ডিও লেটারের স্মারক নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ সানাউল হকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ শাখার উপসচিব ফারজানা খানম নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘একটি ডিও লেটারের পরিপ্রেক্ষিতে নির্দেশিত হয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য কমিটি করে দেয়া হয়েছে। এখানে আমার কিছুই করার নেই।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কমিটি একমাসের মধ্যে বিষয়টি পর্যালোচনা করে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেবে। এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

এদিকে, এ উদ্যোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো: জামাত খান নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘ইতোপূর্বে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে রাজশাহী থেকে পিডিবির কার্যালয় বগুড়ায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু প্রতিবাদের মুখে তখন তা সম্ভব হয়নি। এখন যদি আবার নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক হবে। সরকারেরই বদনাম হবে। এ উদ্যোগ থেকে সরে না এলে আমরা আন্দোলনে নামবো।’

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতে আছে, রাজশাহীতেই থাকবে।’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরীর সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডল নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘নেসকোর প্রধান কার্যালয় আগে থেকেই রাজশাহীতে আছে। তাই একটি বিশেষ এলাকাকে সুবিধা দেয়ার জন্য বিভাগীয় শহর থেকে নেসকোর প্রধান কার্যালয় অন্যত্র স্থানান্তর করা সঠিক সিদ্ধান্ত হবে না।’

তিনি অবিলম্বে এ উদ্যোগ থেকে সরে আসার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

এ ব্যাপারে জানতে মোবাইলে নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: মশিউর রহমানের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।