রাজশাহীতে বজ্রপাত ও অগ্নিকাণ্ডে ছাই ২টি পানের বরজ

আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টির সময় কয়ামাজমপুর চকপাড়া এলাকায় একটি বজ্রপাত সরাসরি একটি পানের বরজে আঘাত হানে। এতে সাথে সাথে আগুন ধরে যায়।

দুর্গাপুর (রাজশাহী) সংবাদদাতা

Location :

Durgapur
পানের বরজে আগুন, (ডানে) পুড়ে ছাই
পানের বরজে আগুন, (ডানে) পুড়ে ছাই |নয়া দিগন্ত

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার কয়ামাজমপুর চকপাড়া ও আলীপুর এলাকায় পৃথক দু’টি ঘটনায় দু’টি পানের বরজ (পানের ক্ষেত) পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গেছে। একটি বজ্রপাতের ফলে আগুন ধরে যায় এবং অন্যটি অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টির সময় কয়ামাজমপুর চকপাড়া এলাকায় একটি বজ্রপাত সরাসরি একটি পানের বরজে আঘাত হানে। এতে সাথে সাথে আগুন ধরে যায় এবং দমকা হাওয়ার কারণে আগুন দ্রুত পুরো বরজে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই পানের বরজটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়।

অন্যদিকে, আলীপুর এলাকায় আরেক কৃষকের প্রায় ১৫ শতাংশ জমির পানের বরজ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রাকিব জানান, তার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল এই পানের বরজটি। এতে তার প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

আরেক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জানান, তার প্রায় দুই বিঘা জমির পানের বরজ সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ায় তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। হঠাৎ এই দুর্ঘটনায় তার জীবিকা অনিশ্চয়তায় পড়েছে। তিনি দ্রুত সরকারি সহায়তা কামনা করেছেন।

এদিকে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে।

রাজশাহীর এই অঞ্চলে পান চাষ স্থানীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বারবার অগ্নিকাণ্ড ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকদের ঝুঁকি বেড়েই চলেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং সুরক্ষামূলক অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের দুর্ঘটনা কৃষি খাতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।